সোসাইটিনিউজ ডেস্ক:
আয়কর বিষয়ে সচেতন করতে এবং করদাতাদের কর দেয়ার ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতে আগামী ১ নভেম্বর মঙ্গলবার থেকে আয়কর মেলা শুরু হচ্ছে। ঢাকাসহ ৮টি বিভাগীয় শহরে ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী কর মেলা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ মেলার আয়োজন করছে। মেলা আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, এবারের মেলায় অনলাইনের কার্যক্রম বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। মেলা আয়োজক কমিটির প্রধান এনবিআর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনলাইনে টিইএন (কর সনাক্তকরণ নম্বর) গ্রহণ ও রিটার্ন গ্রহণের ক্ষেত্রে করদাতাদের সচেতন করতে এবারের মেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।
আয়কর মেলা সবচেয়ে বড় আয়োজন হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মানাধীন রাজস্ব ভবনে। এবারই প্রথমবারের মত এখানে মেলা আয়োজন হচ্ছে। এখানে আয়কর মেলার উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর বাইরে অন্যান্য জেলা শহরে এই সময়ের মধ্যে যে কোন চার দিন মেলা হবে। এছাড়া ৮৬টি উপজেলায় এক দিনের জন্য মেলার আয়োজন করা হবে। আয়োজন করা হবে ভ্রাম্যমাণ কর মেলারও। কর মেলায় ই-টিআইএন গ্রহণ, রিটার্ন ফরম পূরণ ও করদাতার কর সংক্রান্ত তথ্য, তাদের অধিক্ষেত্র, রিটার্ন জমা দেয়া এবং করযোগ্য অর্থ জমা দিতে পারবেন। এ জন্য মেলায় অন্যান্য বছরের ন্যায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বুথও থাকবে। অন্যান্য বছরের রীতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে এবার সেরা করদাতাদের সম্মাননা দেয়া হবে ১৭ নভেম্বর। প্রতি জেলায় অতীতে ৫ জন করদাতাকে এ সম্মাননা দেয়া হলেও এবার এ সংখ্যা আরো দুইজন বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে একজন তরুন করদাতা ও একজন নারী করদাতা অন্তর্ভূক্ত হচ্ছেন।
ঢাকার বাইরে অন্য সাতটি বিভাগীয় শহরের মধ্যে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ের জিইসি কনভেনশন সেন্টার, ময়মনসিংহের টাউন হল মোড়ের জেলা ক্রীড়া সংস্থা, সিলেটের মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়াম, রাজশাহীর জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্স, রংপুরের স্টেশন রোডের জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টার, বরিশালের অশ্বিনী কুমার টাউন হল ও খুলনার বয়রায় কর ভবন প্রাঙ্গণে আয়কর মেলা হবে। এর বাইরে প্রতিটি জেলা শহরেই আয়কর মেলা হবে।
২০১০ সালে প্রথমবারের মত দেশে আয়কর মেলার মত একটি ব্যতিক্রমী মেলা চালু হয়। এটি করদাতাদের মধ্যে বেশ সাড়াও ফেলে। তবে বাজেটে ৩০ নভেম্বরকে আয়কর দিবস ঘোষনা করায় আয়কর মেলার রীতি ভেঙ্গে দেড় মাস পিছিয়ে ১ নভেম্বর অর্থাত্ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে। এতদিন ৩০ সেপ্টেম্বর আয়কর দেয়ার শেষ হিসেবে ঘোষিত ছিল। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় আয়কর দিবস হিসেবে পালিত হতো। আর ১৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হতো। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর আয়কর জমা দেয়ার শেষ দিবস হিসেবে কার্যকর থাকলেও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর অনুরোধে করদাতার আয়কর বিবরণী জমা দেয়ার সময় বাড়ানো হতো। অতীতের বছরগুলোয় এটি অন্তত দুই মাস বাড়ানোর বিষয়টি নিয়মে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে সময়মত আয়কর রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের মধ্যেও উত্সাহের ঘাটতি ছিল।
এ কারনে গত বাজেটে অর্থমন্ত্রী ৩০ নভেম্বরকে আয়কর দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থাত্ ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার শেষ দিন। ওই দিন সরকারি ছুটি হলে এর পরবর্তী অফিস খোলার দিন এটি আয়কর দিবস হিসেবে পালিত হবে। ওই দিন কেউ রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাকে জরিমানা গুণতে হবে। অর্থাৎ তিনি চাইলে সময় বাড়িয়ে নিতে পারবেন। কিন্তু এ জন্য তাকে নির্দিষ্ট হারে চার্জ পরিশোধ করতে হবে। এ কারনে এবার আয়কর মেলাও নভেম্বরে শুরু হচ্ছে।
অনলাইনে টিআইএন দাখিলের পাশাপাশি এবার পহেলা নভেম্বর থেকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল পদ্ধতিও চালু হচ্ছে করদাতাদের জন্য। আব্দুর রাজ্জাক ইত্তেফাককে বলেন, মেলায় ভ্যাট ও শুল্ক বিষয়ে সচেতন করতে ভ্যাট বিভাগের একটি স্টলের পাশাপাশি এনবিআরের অধীনস্থা দুটি একডেমি এবং জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তরের একটি স্টলও থাকবে। অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি এখনো সব করদাতার জন্য চালু হয় নি। তিনি বলেন, অনলাইন কর পরিশোধের কার্যক্রমটি চালু করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রস্তুতির বিষয়টিও আছে। এ জন্য এটি পুরোদমে এবারই চালু করা যাচ্ছে না। তবে আগামী বছরের আয়কর মেলায় এটিও চালু করা যাবে।
গত বছর আয়কর মেলায় দেশব্যাপী রেকর্ড সংখ্যক ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫৪ জন ব্যক্তি সেবা নিয়েছেন। এ সংখ্যা এর পূর্বের বছরের মেলার চাইতে এক লাখ বেশি। এছাড়া গতবার ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০ জন করদাতা মেলায় তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এর বিপরীতে আদায় হয়েছিল ২ হাজার কোটি টাকা। মেলার আয়োজক সূত্র আশা করছে, এবার আরো বেশি সংখ্যক করদাতা মেলা থেকে সেবা নেবেন।

 

LEAVE A REPLY