মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে যুব সমাজকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তাদের দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা চাইনা আমাদের দেশের যুব সমাজ বিপথে চলে যাক, আর বাবা-মায়ের জন্য দুঃখের কারণ ঘটুক। মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ থেকে যুব সমাজকে বিরত থাকতে হবে।

কারণ এই পথ মানুষকে সুস্থ পথে নিয়ে যায় না। আর এই পথ বেহেস্ত আর স্বর্গেও নিয়ে যাবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, যুব সমাজকে বলব- মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ- এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে নিজের যে মেধাটা আছে, যে কর্মশক্তি আছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে নিজের জীবনকে, নিজের পরিবারকে যেমন উন্নত করা যাবে, দেশটাও উন্নত হবে।

বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য রয়েছে, সেখানেও মূল ভূমিকা যুব সমাজেরই, মনে করিয়ে দেন তিনি।
আমাদেরকে কেউ ভিক্ষুক বলবে, গালি দেবে আর ভিক্ষার হাত পেতে আমাদেরকে চলতে হবে, আমরা সেই বাংলাদেশ দেখতে চাই না, বলেন সরকারপ্রধান।

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের ও ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়তে যুব সমাজের মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

এই কাজ সম্পন্ন করতে হলে আমাদের যুব সমাজের কর্মক্ষমতা, দক্ষতা, মেধা-মনন সব থেকে বেশি প্রয়োজন। আর সেভাবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে হবে, সেটাই আমরা চাই।

‘আত্মকর্মী যুবশক্তি-টেকসই উন্নয়নের মূলভিত্তি’ স্লোগানে এবারের যুব দিবস পালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী যুব সমাজের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যুব সমাজ সবচেয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব; এদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ করতে পারব- এ দৃঢ় বিশ্বাস আমার আছে। কারণ আমাদের আছে শক্তিশালী যুব সমাজ, মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৯ জন যুব উদ্যোক্তাকে পুরস্কার দেন। এবারই প্রথমবারের মত অটিজম কোটায় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY