আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এফবিআইয়ের ইমেইল ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঝড়ো হাওয়া বইছে। তারপরও হিলারি ক্লিনটন জনমত জরিপে এগিয়ে আছেন। ডুনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে তিনি শতকরা ৫ পয়েন্টে এগিয়ে। তাকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৪ ভাগ ভোটার। ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৩৯ ভাগ। বার্তা সংস্থারয়টার্স/ইপসোস জরিপে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এ খবর দিয়েছে রয়টার্স।
এতে বলা হয়েছে, ২৬ থেকে ৩০শে অক্টোবর তারা এ জরিপ পরিচালনা করে। অন্য জরিপগুলোতে দেখা যায় হিলারি ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন দু’প্রার্থী। সিএনএনের এক জরিপে বলা হয়েছে হিলারি ক্লিনটন শতকরা মাত্র এক ভাগ সমর্থন বেশি পেয়ে এগিয়ে আছেন। তাকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৬ ভাগ মার্কিনী। ট্রাম্পকে সমর্থন করেছেন শতকরা ৪৫ ভাগ।
ওদিকে নামকরা যেসব সংস্থা জরিপ পরিচালনা করে তাদের জরিপ নিয়ে একটি গড় জরিপ করেছে রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স। এ জরিপে দেখা যায়, গত শুক্রবার হিলারি ক্লিনটনের জনপ্রিয়তা ৪.৬ থেকে কমে সোমবার দাঁড়িয়েছে ২.৫ পয়েন্টে। গত শুক্রবার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালক জেমস কমি মার্কিন কংগ্রেসে একটি চিঠি পাঠান। তাতে তিনি কংগ্রেসকে জানান যে, তার এজেন্সি নতুন কিছু ইমেইল পেয়েছে। এগুলো হিলারি ক্লিনটনের। নতুন এ ইমেইলগুলো তদন্তাধীন।
তবে এ বিষয়ে জনগণের সামনে এফবিআই খুব সামান্যই প্রকাশ করেছে। তারা শুধু বলেছে, হিলারি ক্লিনটনের শীর্ষ সহযোগী হুমা আবেদিনের স্বামী, সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যান্থনি ওয়েইনারের কম্পিউটার তল্লাশি করতে গিয়ে এসব ইমেইল পাওয়া গেছে। এর আগেও হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক ইমেইল পাওয়া যায়। তা নিয়ে তদন্ত করে এফবিআই। এরপর জুলাইয়ে জেমস কমি বলেন, ক্লাসিফায়েড ইনফরমেশন ঘাঁটাঘাটির ক্ষেত্রে হিলারি ও তার স্টাফরা চরম দায়িত্বহীন ছিলেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল চার্জ গঠন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় নি।
ফলে সে দফায় রক্ষা পান হিলারি। গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে জেমস কমি বলেন, নতুন পাওয়া এসব ইমেইলে কি ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে সে বিষয়ে আমরা জানি না। তবে তার এ কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঝড়ো বাতাস বইছে। এতদিন ফ্রন্টরানার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া হিলারি ক্লিনটন জরিপে এগিয়ে থাকলেও তার সমর্থন কমে যাচ্ছে। ডুনাল্ড ট্রাম্প শিবির এতে উল্লসিত।
তিনি নিজে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির চেয়ে বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইমেইল ইস্যুকে, যদিও ইমেইলে কি আছে তা কেউই এখনও জানে না। এ ইমেইলের সারকথা এ নির্বাচনের আগে জানারও কোনো সুযোগ নেই বলেই আভাস দিচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলো। কিন্তু তার আগে ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। আলাদা একটি জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৪৩ ভাগ মানুষ সমর্থন করছেন হিলারিকে। ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন শতকরা ৩৭ ভাগ। লিবারটারিয়ান প্রার্থী গ্যারি জনসনকে সমর্থন করছেন শতকরা ৬ ভাগ ও গ্রিন পার্টির জিল স্টেইনকে সমর্থন করছেন শতকরা ১ ভাগ ভোটার।

LEAVE A REPLY