মোঃ শামীম আহমেদ, সৈয়দপুর প্রতিনিধি:
সৈয়দপুর শহরে হঠাৎ আবির্ভাব হওয়া একটি হনুমানকে নিয়ে হুলুস্থুল কান্ড বেঁধে গেছে। গত দুই দিন যাবৎ হনুমানটি সৈয়দপুর শহরে কখনও গাছে কখনও বাসাবাড়ি ছাদে অবস্থান করছে। খবর পেয়ে রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে সংশ্লিষ্ট লোকজনও সেটি উদ্ধার করতে গিয়েছিল। কিন্তু গাছের মগডালে অবস্থান করায় তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে। হনুমানটিকে এক নজর দেখার জন্য শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন।
খোঁজ নিয়ে যায় গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে শহরের কুন্দল এলাকায় ফাঁকা রাস্তার মধ্যে হঠাৎ বড় একটি হনুমান দেখতে পান এলাকার মানুষ। পরে মানুষজন ধাওয়া করলে সেটি কুন্দল দহলা এলাকায় একটি আম গাছের মগডালে আশ্রয় নেয়। এরপর হনুমান আসার খবরটি অল্প সময়ে গোটা এলাকায় চাউর হয়ে পড়ে। এতে করে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ সেটি দেখার জন্য কুন্দল দহলা এলাকায় ছুঁটে আসেন। কৌতুহলী মানুষের আগমনে হনুমানটি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বিকেল ১টার দিয়ে সেটি শহরের নতুনপাড়া এলাকায় রেলওয়ে পুলিশ লাইনের একটি পাকুড় গাছের মগডালে অবস্থান নেয়।
এমতাবস্থায় কুন্দল দহলা এলাকার বাসিন্দা লায়ন মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি সৈয়দপুর উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরে খবর পেয়ে রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সহযোগে হনুমানটিকে উদ্ধার করতে একটি দল আসে। কিন্তু হনুমানটি সুউচ্চ একটি গাছের মগডালে অবস্থান করায় সেটি আর উদ্ধার করতে না পেয়ে চিড়িয়াখানার লোকজন ফিরে যান।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রহমত আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। তিনি জানান, রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে দুইজন এসে তাকে সঙ্গে নিয়ে হনুমানটি উদ্ধারে চেষ্টা করেন। শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শত শত নানা বয়সের মানুষ হনুমানটি দেখার জন্য ভীড় করছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন হনুমানটিকে দেখে পূজা করছে। কেউবা হনুমানটির জন্য কলা-রুটিসহ নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসেছেন। এ সময় হনুমানটি দেখতে আসা মানুষজনকে সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বাঁশবাড়ী এলাকাবাসীকে।

LEAVE A REPLY