সোসাইটিনিউজ ডেস্ক:
শস্য ভান্ডার খ্যাত নাটোরে রোপা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ৯ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বিঘাপ্রতি গড়ে আড়াই মণ ধান বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নাটোরে ৫৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৯ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলায় সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৮৫০ হেক্টর, বড়াইগ্রামে ১৪ হাজার ১০০ হেক্টর, নাটোর সদরে ৯ হাজার ৯৩৫ হেক্টর, লালপুরে ৬ হাজার ৮০৫ হেক্টর, গুরুদাসপুরে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর, বাগাতিপাড়ায় ৩ হাজার ৭৯০ হেক্টর এবং নলডাঙ্গা উপজেলায় ৩ হাজার ৫১০ হেক্টর।

৬৫ হাজার ৪৯০ হেক্টর ধানের আবাদি জমির মধ্যে উচ্চফলনশীল বিনা-৭, ব্রি-৩৯, ব্রি-৪৯, স্বর্ণা জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৬৪ হাজার ৭৫ হেক্টরে, ধানী গোল্ড, টিয়া, তেজ হাইব্রিড আবাদ হয়েছে ৩৭৫ হেক্টরে এবং ১ হাজার ৪০ হেক্টরে কালোজিরা, চিনি আতপ, দুধসর ইত্যাদি জাতের সুগন্ধি চাল আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগ চলতি বছর হেক্টর প্রতি ৪.০৫ টন অর্থাৎ বিঘাপতি ১৩.৫ মণ ধান হিসেবে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ১৪২ টন ধান। ইতোমধ্যে আবাদি জমির ৩ শতাংশ আগাম জাতের ধান কাটা হয়েছে। আগাম জাতের মধ্যে রয়েছে বিনা-৭, ব্রি-৬২ ও ব্রি-৩৯। কর্তিত ফসলের গড় ফলন পাওয়া গেছে বিঘাপ্রতি ১৬ মণ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে বিঘাপ্রতি গড়ে আড়াই মণ ধান বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

বড়াইগ্রাম উপজেলার মহিষভাঙ্গা গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বিনা-৭ ধান আবাদ করে ফলন পেয়েছেন বিঘায় ১৬ মণ। চর নটাবাড়িয়া গ্রামের জাকির হোসেন ব্রি-৬২ ধান কেটে ফলন পেয়েছেন ১৪ মণ করে। আঘ্রাণের ময়নল হোসেন ব্রি-২৯ ধান আবাদ করে ফলন পেয়েছেন বিঘাপ্রতি ১৮ মণ।

কৃষি বিভাগ ধান চাষে তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছে। নতুন প্রযুক্তির সাথে কৃষকদের মেলবন্ধন তৈরি করতে রিপার মেশিনে ধান কাটার ১২টি মাঠ দিবস আয়োজন করেছে। এসব দিবসে সহস্রাধিক কৃষককে রিপার মেশিন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে এর সুবিধাদি অবহিত করা হয়েছে। নতুন জাতের ব্রি-৬২ ধানের একটি মাঠ দিবস সিংড়া উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারা জেলায় উন্নত ধানের বীজ তৈরিতে কৃষকদের সার ও বীজ সুবিধা প্রদান করে ১ একরের ২৪০টি এবং এক বিঘার ৮৬৪টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে।

আশাতীত ফলনে কৃষকদের চোখে মুখে প্রশান্তির চিহ্ন। গ্রামীণ জনপদে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কর্মযোগ্য শুরু হয়েছে। চলছে নবান্ন উৎসবের প্রস্তুতি। বিঘায় ১৮ মণ ধান পেয়ে উৎফুল্ল সিংড়া উপজেলার বড় সাঁঐল গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, মনে হচ্ছে জমি থেকে ইরির মতই অধিক ফলন ঘরে উঠছে।

বিগত বছরগুলোর তুলনামূলক চিত্রে জেলায় রোপা আমন ধানের আবাদি জমি ও উৎপাদনের পরিমাণ-উভয়ই ক্রমশ: বেড়েছে। ২০১৩ সালে ৪৯ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে ২ লাখ ১৯ হাজার ৭২১ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। ২০১৪ সালে ৬০ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমি থেকে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮৬ টন এবং গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে ৬০ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমি থেকে ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৪৮ টন ধান উৎপাদন হয়।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল হুদা বলেন, কৃষকদের অদম্য প্রচেষ্টা এবং কৃষি বিভাগের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তার সমন্বিত ফলাফলে রোপা আমনের উন্নত ফলন অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
সূত্র: বাসস

LEAVE A REPLY