ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইনকে হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া জামিনের বিরুদ্ধে দুদকের লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে সোমবার এ শুনানি চলে।

শুনানির এক পর্যায়ে ডেসটিনির কৌসুলির উদ্দেশে আদালত বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাঁচারের অভিযোগ রয়েছে। তিন হাজার কোটি টাকা দিয়ে দিন তখন জামিনের বিষয়টি দেখব।

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ শর্তাসাপেক্ষে ডেসটিনির রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসাইনকে জামিন দেয়। শর্তের মধ্যে ছিলো সংশ্লিষ্ট থানায় পাসপোর্ট জমা ও বিদেশে যেতে হলে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।পরে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ এই জামিন স্থগিত করে দেয়।

সোমবার শুনানিতে ডেসটিনির কৌসুলি ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউ সি বলেন, ডেসটিনির কর্ণধাররা চার বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন। দুদক অর্থ পাঁচারের অভিযোগে যে মামলা করেছে তা সঠিক নয়। তাদের জামিন বহাল রাখা হোক। জবাবে দুদক কৌসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, এই মামলায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানেই অর্থ পাঁচারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ফলে তাদের জামিন বহাল রাখা ঠিক হবে না। আদালত আগামী ১০ নভেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিন ও মোহাম্মদ হোসেনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেশন (এমএলএম) ও ট্রি-প্ল্যানটেশন প্রকল্পের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্য থেকে ৩ হাজার ২৮৫ কোটি ২৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫২৪ টাকা আত্নসাত করে পাঁচারের অভিযোগে রাজধানীর কলাবাগান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। বর্তমানে এই মামলায় দু’জনই কারাগারে রয়েছেন।

LEAVE A REPLY