সোসাইটনিউজ ডেস্ক:
রাজশাহীর জেলার অঞ্চলসহ সর্বত্র টমেটো চাষ সফলভাবে এগিয়ে চলছে। চাষীরা টমেটো চাষে খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। টমেটো চাষের ফলে এ অঞ্চলের শত শত শিক্ষিত যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাজারজাতকরণ ও স্বল্প ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিশ্চিত হলে এখানকার দরিদ্র মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অনেক পরিবর্তন হবে। স্থানীয়রা জানান, জেলার গোদাগাড়ি উপজেলায় গত কয়েক বছর ধরে চাষীরা ব্যাপক আকারে টমেটোর চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোজদার হোসেন জানান, চলতি বছর এই উপজেলাতেই চার হাজারেরও বেশি হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন জাতের গুণগত মানের হাইব্রিড-টমেটো বীজের কোন ঘাটতি ছিল না। অধিকন্তু টমেটো বীজের বাজার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় গত তিন বছর যাবত এখানে কেউ ভেজাল বীজ বিক্রি করতে পারেনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, জেলায় ১ হাজার ২শ’ গ্রামে ব্যাপকভাবে টমেটোর চাষ করা হয়। ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৭ বছরে এখানকার দ্বিগুণ জমিতে টমেটোর চাষ হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) অধিক ফলনশীল ও গুণগতমানের ১০ জাতের বীজ উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া তারা কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। এসব উন্নত জাতের বীজে স্থানীয় বীজের চাইতে তুলনামূলকভাবে উৎপাদন বেশি হয় এবং লাভজনক।

ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক জানান, ২০১৫-১৬ সালে গোদাগাড়ি উপজেলায় জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ টমেটোর চাষ করা হয। এ সময় এখানে ৪ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টন টমেটো উৎপাদন হয়।

চলতি বছর এই উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এখানে টমেটো চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমনকি কয়েকটি বহুজাতিক বীজ কোম্পানি গোদাগাড়ি থেকে কিছু হাইব্রিড জাতের বীজ ক্রয় করছে।
সূত্র:কৃষি প্রতিক্ষণ

LEAVE A REPLY