পুরো জীবনব্যাপীই বন্ধুত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কিন্তু বিদ্যালয় এবং বিয়ের মধ্যবর্তী সময়কালে এটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক যখন তিক্ততায় পর্যবসিত হয় তখন কীভাবে তা থেকে বেরিয়ে আসবেন? প্রথমত, বিষয়টি নিয়ে সময় ব্যয় করে আন্তরিকভাবে ভাবুন। কারণ যখনই ব্রেক-আপের উদ্যোগ নিয়ে ফেলবেন তখন আর ফিরে আসতে পারবেন না। বন্ধুত্বের ধরনভেদে অনেকসময় হয়ত আনুষ্ঠানিকভাবেই তার অবসান ঘটানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। সাধারণত চার ধররেন বন্ধুত্ব রয়েছে। একই ধরনের অতীত ইতিহাসের কারণে সৃষ্ট বন্ধুত্ব; বাধ্য হয়ে একসঙ্গে থাকার ফলে সৃষ্ট বন্ধুত্ব; সামাজিক বন্ধুত্ব; একসঙ্গে বেড়ে ওঠার ফলে সৃষ্ট বন্ধুত্ব। এই সবগুলো বন্ধুত্বেরই আপনি চাইলে অবসান ঘটাতে পারবেন শুধু সাধারণভাবে যোগাযোগ রাখা বন্ধ করে দিয়ে। তবে আপনার বন্ধু যদি জিজ্ঞেস করেন, কেন আপনি আর তাকে টেক্সট করছেন না বা একসঙ্গে সময় কাটানোর জন্য কেন আপনাকে কখনোই পাওয়া যায় না তাহলে আপনাকে এর একটি ব্যাখ্যা দিতে হবে। আপনি কী বলছেন এবং কীভাবে বলেছেন তা খুব সতর্কতার সঙ্গে ভেবে দেখুন। কারণ বন্ধু হলেও আপনার কোনো কথা হয়ত তিনি কখনোই ভুলবেন না। কোনো বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙ্গার সময় দুজনেরই বন্ধু অন্য এমন কোনো বন্ধুকে সামনে রাখবেন না। কারণ এতে হয়ত আপনার বন্ধুটি অযাচিতভাবে মনে কষ্ট পেতে পারেন। আপনাদের মধ্যে যদি মিলের কোনো বিষয় আর না থাকে বা আপনারা যদি আর পরস্পরের সঙ্গ উপভোগ না করেন তাহলে পরস্পরকে দোষারোপ না করে বরং এর দায় গ্রহণ করে বন্ধুত্বের অবসান ঘটানোই উত্তম। এটা বলাটা ঠিক আছে যে, আমি সত্যিই তোমার ব্যাপারে এবং আমাদের মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল সে ব্যাপারে যত্নশীল। কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বটি টিকিয়ে রাখার মতো যথেষ্ট উদ্যম এবং সময় আমার হাতে আর নেই। অথবা তুমি যেমনটি চাও আমার পক্ষে আর তেমন বন্ধু হওয়া সম্ভব নয়। অথবা আমরা মনে হয় এখন আর একই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছি না। এতে বন্ধুত্ব ভাঙার ফলে আপনাদের মধ্যে কোনো তিক্ততার সৃষ্টি হবে না। এবং পরে যখন আপনাদের সাক্ষাৎ হবে তখন আপনারা পরস্পরের সঙ্গে আন্তরিক আচরণ করতে পারবেন। এ ছাড়া পরিস্থিতি বদলালে পুনর্মিলিত হওয়ার একটি সুযোগও খোলা থাকবে। আর মনে রাখবেন, সব সময়ই অন্যের অনুভূতির ব্যাপারে সতর্ক থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যা আপনাকে শুধু একজন ভালো মানুষ হিসেবেই গড়ে তুলবে। আপনার কোনো বন্ধু যখন বোকার মতো আপনার গোপন কিছু ফাঁস করে দেবে বা অনবরত নিষ্ঠুর আচরণ করবে তখন আপনি তা রুখে দাঁড়াতে পারেন বা রুখে দাঁড়ানো উচিত-ও। আর তিনি যদি আপনার বিশেষ ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধু না হন তাহলে তার সঙ্গে বন্ধুত্বের অবসান ঘটালেই সবচেয়ে ভালো হবে। আর এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য হলো সৎ হওয়া এবং সরলভাবে ব্যাখ্যা করা কেন আপনি অবিশ্বস্ত কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে পারবেন না। তবে এ বিষয়ে অনলাইনে কিছু লিখবেন না। কারণ অনলাইন শেয়ার হওয়া জিনিস পরে দেখলে আপনি হয়ত অনুশোচনা করতে পারেন।

LEAVE A REPLY