সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ক্রম বিন্যাসে প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার তিন নম্বর স্থানে স্পিকারের সমতুল্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হয়েছে।

অন্য দিকে অ্যাটর্নি জেনারেলকে হাইকোর্টের বিচারপতির পদমর্যাদায় এবং হাইকোর্টের বিচারপতিদেরকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় স্থান দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়, সংবিধান যেহেতু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, সেহেতু রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রমের শুরুতেই সাংবিধানিক পদাধিকারীদের গুরুত্ব অনুসারে রাখতে হবে।

প্রধান বিচারপতিকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সমমর্যাদার রাখার কারণ হিসেবে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে এ দুটি পদ এক সংগে ৪ নম্বর তালিকায় ছিল। সেসময় ২ নম্বরে ভাইস প্রেসিডেন্টের এবং ৩ নম্বরে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছিল। কিন্তু ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ উঠে যাওয়ায় দুই নম্বরে প্রধানমন্ত্রীকে নেওয়া হয়েছে। ৩ নম্বরে স্পিকারকে নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতিকে ৪ নম্বরে রেখে তার পদমর্যাদার অবনমন করা হয়েছে। তাই প্রধান বিচারপতির পদটি স্পিকারের সঙ্গে রাখতে বলা হলো।

আপিল বিভাগের বিচারপতিকে তালিকার ৭ নম্বরে এবং আট নম্বরে হাইকোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলকে রাখতে বলা হয়েছে। এ তালিকার ১২ নম্বরে সংসদ সদস্য, কম্পট্রোলার এবং অডিটর জেনারেল ও ন্যায়পালকে, ১৫ নম্বরে পিএসসি চেয়ারম্যানকে রেখে সরকার আইন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ কিছু সংশোধন ও পরিমার্জনসহ বহাল রাখে। প্রায় দুই বছর পর গতকাল পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। এর মূল রায়টি লিখেন বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন।

এতে সাক্ষর করেন বর্তমান প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহহাব মিয়া, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। প্রকাশিত রায়ে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকার রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম তালিকা (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) তুলে ধরে রায়ে বলা হয়, ওইসব দেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম তালিকা (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) বাংলাদেশ থেকে আলাদা।

LEAVE A REPLY