গাইবান্ধায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল।

সুলতানা কামাল বলেন, সেখানে যে হত্যাকাণ্ড ও লুটের ঘটনা ঘটেছে, আমরা সে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এ রকম একটি নিষ্ঠুর, অমানবিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করার মতো ঘটনা স্বাধীন বাংলাদেশে ঘটতে পারে না। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করলে আমাদের গা শিউরে ওঠে।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ও বাগদা ফার্ম এলাকায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা ঠিক যে অবস্থায় ছিল, তাদের সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনা হোক। ত্রাণের আওতায় না এনে তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক।

লেখক, গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, গত কয়েক বছরে যে যে ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে সেসব ঘটনা পাকিস্তান আমলে ঘটেছিল। আমরা নাসিরনগরে দেখেছি এবং গাইবান্ধায় দেখলাম। পুলিশ যেখানে যাচ্ছে, সেখানে তাদের সঙ্গে একটি অক্সিলারি (সাহায্যকারী) বাহিনী থাকছে। যেভাবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সৈন্যের সঙ্গে আলবদর ও রাজাকার বাহিনীরা থাকত।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, গত ৬ ও ৭ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলার সাহেবগঞ্জ ও বাগদা ফার্ম এলাকায় পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনী ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ ও বাঙালি কৃষকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালায়। পুলিশের উপস্থিতিতে চিনিকল মালিকের সন্ত্রাসীরা তাঁদের বাড়িঘরে আগুন দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে চারজন সাঁওতাল নিহত হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের পরিচালনায় সংবাদ সস্মলেনে আরও বক্তব্য দেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সরেন, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ প্রমুখ।

LEAVE A REPLY