আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে এক পীরের মাজারে শনিবার সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৫২ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক। হতাহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। বেলুচিস্তানের প্রত্যন্ত খুজদার জেলার শাহ নূরানী নামে ওই মাজারে বিস্ফোরণটি ঘটে। করাচি শহরে নামকরা সুফি গায়ক আমজাদ সাবরিকে গুলি করে হত্যার কয়েক মাস পর এ ঘটনা ঘটল।শনিবারের ভয়াবহ হামলার পর দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস (ইসলামিক স্টেট)। আইএস পরিচালিত ‘আমাক’ নিউজ এজেন্সিতে এ হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয় সংগঠনটি।

বিবিসি, এএফপি ও ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুফি মতবাদীদের শাহ নূরানী মাজারে প্রতিদিনই সূর্যাস্তের সময় ভক্তদের নাচ হয়। এ নাচকে বলে ধামাল, দলবদ্ধ এ নাচের সময় ভক্তরা একটা ঘোরের মধ্যে চলে যান। প্রতিদিনের মতো শনিবারও নাচের সময় বিস্ফোরণটি হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে ছুটে যান এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলেন।

বিস্ফোরণে আহতদের করাচি শহরের হাসপাতালগুলোতে নেয়া হয়। বহু হতাহতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় করাচি ও খুজদারের হাসপাতালগুলোতে। তবে জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যন্ত ওই এলাকায় পৌঁছতে হিমশিম খেতে হয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

মাজারে বিস্ফোরণে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মীর সরফরাজ আহমেদ বাগতি। তিনি এ হামলার জন্য বাইরের দেশের সংশ্লিষ্টতার দিকে ইঙ্গিত করেন। যদিও হামলাটি আত্মঘাতী নাকি অন্য কেউ গিয়ে হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হুশিয়ারি দেন, যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে কেউ হামলার সুযোগ নেয়, তাহলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, শাহ নূরানী মাজার এলাকাটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় সেখানে ভালো কোনো হাসপাতাল নেই। এজন্য গুরুতর আহতদের করাচি হাসপাতালে পাঠানো হবে।

খুজদার এলাকার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা আবদুল হাকিম লাসি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শাহ নূরানী মাজারে ৬শ’রও বেশি লোক দলবদ্ধ নাচ দেখছিলেন। এমন সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে উদ্ধার তৎপরতায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। মাজারটিতে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হতো।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ টুইটে জানায়, বিস্ফোরণের পরই সেনাপ্রধান রাহিল শরিফের নির্দেশে সেনাবাহিনী ও চিকিৎসক দল মাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় যেতে বেগ পোহাতে হয় তাদের। হতাহতদের দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলীও। তার নির্দেশে ঘটনাস্থলে ৫০টি অ্যাম্বুলেন্স রওনা দেয়।

ন্যাশনাল পার্টির সভাপতি মীর হাসিল বিজেনজো বলেন, আহতদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার যদি হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা না করে তাহলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে। বেলুচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র আনোয়ার কাকার জানান, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য প্রাদেশিক সরকারের কাছে কোনো হেলিকপ্টার নেই।

সুফিবাদকে ইসলাম ধর্মের একটি সহিষ্ণু এবং আধ্যাত্মিক ধারা বলে মানা হয়। কিন্তু চরমপন্থীরা এর বিরোধী। বেলুচিস্তান প্রদেশে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো এ বছর একাধিকবার বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। অক্টোবরে কোয়েটা শহরে একটি পুলিশ কলেজে হামলায় বহু লোক নিহত হন। এর আগে আগস্টে আক্রমণ চালানো হয় একটি হাসপাতালে। এতে মারা যান ৭০ জন।

LEAVE A REPLY