বিনোদন ডেস্ক
ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতি, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শণ এবং পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় দৃষ্টিনন্দন স্থানগুলোতে গিয়ে ইত্যাদির মূল অনুষ্ঠান ধারণ করা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই। ইত্যাদির এই দেশ পরিক্রমার ধারাবাহিকতায় এবারের পর্ব ধারণ করা হয়েছে অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোরে।

স্থাপত্য শৈলীর অনন্য নিদর্শণ দেশের সবচাইতে প্রাচীন যশোর কালেক্টরেট ভবন এর সামনে গত ৫ই নভেম্বর ধারণ করা হয় এবারের ইত্যাদি। ভবনের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে নির্মিত আলোকিত মঞ্চের সামনে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ধারণ করা হয় গণমানুষের এ অনুষ্ঠানটি।

শিকড় সন্ধানী ইত্যাদিতে সবসময়ই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রচার বিমুখ, জনকল্যাণে নিয়োজিত মানুষ খুঁজে এনে তাদের বিভিন্ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়।

যাতে তাদের কাজ দেখে অন্যেরাও অনুপ্রাণিত হতে পারেন। এবারের পর্বে যশোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে রয়েছে একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন এবং যশোরের গদখালীর ফুল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের উপর রয়েছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি শিক্ষক পরিবারের উপর রয়েছে একটি শিক্ষামূলক প্রতিবেদন। যে পরিবারের প্রত্যেকেই নিজেরা শিক্ষা গ্রহণ করে অন্যকেও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার ব্রত নিয়েছেন। এবারের বিদেশী প্রতিবেদন করা হয়েছে ফ্রান্সের প্যালেস অব ভার্সাই এর উপর। একসময় যেখানে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত অবস্থান করেছেন।

এবারের ইত্যাদিতে মুল গান রয়েছে দু’টি। উল্লেখ্য ইত্যাদিতে সবসময় ভিন্ন আঙ্গিকে বিষয় ভিত্তিক গান প্রচার করার চেষ্টা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ইত্যাদিতে এই যশোরেরই সন্তান কবি ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আমাদের সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র মো‏হাম্মদ আব্দুল জব্বার।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে টিভি পর্দায় অনুপস্থিত যশোরের সন্তান শিল্পী আকবরকে দেখা যাবে এবারের ইত্যাদিতে। যশোরকে নিয়ে মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান লেখা ও আলী আকবর রূপু’র সুর করা একটি দলীয় সঙ্গীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছেন যশোরের অর্ধশতাধিক স্থানীয় নৃত্য শিল্পী।

এবারে যশোরকে ঘিরে করা প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে হাজার হাজার দর্শকের মাঝখান থেকে ৪ জন দর্শক নির্বাচন করা হয়। এবারের দর্শক পর্বের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন যশোরেরই কৃতি সন্তান খ্যাতিমান গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। তারই লেখা ৪টি জনপ্রিয় গানের উপরে সাজানো হয়েছে দ্বিতীয় পর্ব। যা ছিল বেশ উপভোগ্য।

নিয়মিত পর্ব হিসেবে এবারও রয়েছে যথারীতি মামা-ভাগ্নে, নানী-নাতি ও চিঠিপত্র বিভাগ। বরাবরের মত এবারও ইত্যাদির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন ইত্যাদির নিয়মিত শিল্প নির্দেশক মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মামুন মোহাম্মদ। সব শ্রেণী পেশার মানুষের প্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদির আগামী পর্ব একযোগে বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে-এ প্রচারিত হবে ১৮ নভেম্বর, শুক্রবার রাত ৮ টার বাংলা সংবাদের পর। ইত্যাদির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মান করেছে ফাগুন অডিও ভিশন।

LEAVE A REPLY