আগামী ২২শে ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই বর্তমান নির্বাচন কমিশনের শেষ চ্যালেঞ্জ। অতীতের সব বদনাম ঘুচিয়ে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা ফিরে পাবার ইসির এটাই শেষ সুযোগ বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা। এ প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন এমনিতেই উত্তপ্ত বিষয়। নির্বাচন কমিশন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায়, তাহলে আগে থেকে তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি নারায়ণগঞ্জ সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারে ইসি তাহলে অন্তত একটা ভালো কিছু হাতে
নিয়ে যেতে পারবে। আর যদি নির্বাচনটি বিতর্কিত হয়ে যায় তাহলে তো বলার কিছু আর নেই। ২০১১ সালে  আমরা যখন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন করেছিলাম তখন সেনা মোতায়েন নিয়ে সরকারের সঙ্গে নানারকম টানাপড়েন হয়েছিল। যেহেতু সেই নির্বাচনটা আমরা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের দ্বারা। সে কারণে নির্বাচনে যে ধরনের সহিংসতা হবার কথা ছিল সেরকমটি হয়নি। ২০১১ সালের মতো এত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আগে কখনও হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে বর্তমান কমিশনকে ফলোআপ প্ল্যানিং করতে হবে।  প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব নির্বাচন কমিশনারকে এ নির্বাচনের সঙ্গে সংযুক্ত হতে হবে। তারা যদি মনে করে রিটার্নিং অফিসার এবং তাদের লোক দিয়েই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়ে যাবে। তাহলে কখনই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এখন তাদের শেষ সময়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন কেমন ছিল, তারা কি করেছে ইতিহাসই বলবে। নির্বাচন কমিশনের জন্য এই নির্বাচন একটা চ্যালেঞ্জ। তাই রিটার্নিং অফিসারকে তাদের পুরো সমর্থন দিতে হবে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও জানিপপ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, বাংলায় একটা কথা আছে- শেষ ভালো যার সব ভালো তার। যেহেতু নির্বাচন কমিশনের হাতে বড় নির্বাচন বলতে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনই আছে। এর মধ্যেই বাকি সব নির্বাচন সম্পন্ন করেছে ইসি। আমরা প্রত্যাশা করি নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন তার অতীতের বদনাম ঘুচাতে পারবে। নারায়ণগঞ্জের প্রেক্ষাপট আমলে নিয়ে একটা সার্বক্ষণিক সতর্কতা ইসিকে নিশ্চিত করতে হবে আইনশৃঙ্খলার দৃষ্টিকোণ থেকে। এ নির্বাচনে প্রশাসন পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এখন যেহেতু নির্দিষ্ট একটি এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি দেশব্যাপী একদিনে জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় নির্বাচন নয়। আশা করি নির্বাচন কমিশন মনোযোগের সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে কমিশনের উচিত হবে তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মাঠ পর্যায়ে অবস্থান করতে হবে। ভোটগ্রহণের দিন শুধু কমিশনে বসে থেকে নির্বাচন মনিটরিং না করে সরেজমিনে নির্বাচন তদারকি করতে হবে।  সুসাশনের জন্য নাগারিক (সুজনের) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একটি প্রবাদ আছে- বৃক্ষ তোমার নাম কি ফলে পরিচয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ক্ষমতায় আসার পর থেকে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তার সব ক’টিতেই তারা ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে, ব্যাপক জাল-জালিয়াতি হয়েছে এবং ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। সেই সময় নির্বাচন কমিশন- পিঠে কুলো দিয়েছে আর কানে তুলো দিয়েছে। বিতর্কিত নির্বাচনকে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন বলে দাবি করেছে। এটা কোনোভাবে কাঙ্ক্ষিত ছিল না। তারা নির্বাচনকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। তাদের অতীতের যে খারাপ রেকর্ড তা দেখে তো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে- এটা আশা করা দুরূহ। তার পরও আমরা আশা করতে চাই যে, বিদায়ের আগে এই কমিশন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু করতে শেষ চেষ্টা করে যাবে।

LEAVE A REPLY