আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জলবায়ু পরিবর্তন রোধে ট্রাম্প ভালো ও বিজ্ঞের মতো সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। তিনি বলেছেন, ‘ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করবেন, মনোযোগ দিয়ে শুনবেন আর এর গুরুত্ব অনুধাবনের চেষ্টা করবেন। আমি এ ব্যাপারে আশাবাদী।’ গতকাল মঙ্গলবার মারাক্কেশে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বান কি মুন এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরুর আগে বান কি মুন যে বক্তব্য দেন ও সাংবাদিকদের যেসব প্রশ্নের উত্তর দেন, তার বড় অংশজুড়ে ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দুপুর থেকে বিশ্বনেতারা যে বক্তব্য শুরু করেছেন, তাতে সরাসরি ট্রাম্পের নাম না থাকলেও ট্রাম্প-আতঙ্ক নানা বক্তব্যে পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে।
গতকাল বান কি মুন যখন এ বক্তব্য দিলেন, তখন আফ্রিকার মরক্কোর মারাক্কেশের তাপমাত্রা এক দিনে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। জাতিসংঘের ২২তম জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে আসা ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিদের গরমে হাসফাঁস অবস্থা। এই শতাব্দীর মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে না দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সম্মেলনে যোগ দেওয়া বিশ্বনেতাদের মধ্যে বান কি মুনের এ মন্তব্য যেন আরবের মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির অনুভূতি নিয়ে এসেছে।

বান কি মুন বক্তৃতায় আরও বলেন, কোনো দেশ ধনী বা শক্তিশালী বা দরিদ্র যা-ই হোক না কেন, তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সবাই মিলে জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিপদ মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে তাঁদের দেখা হবে। তখন তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আবারও কথা বলবেন।

সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় গত সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মারাক্কেশে পৌঁছান। তাঁর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হাছান মাহমুদ, খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির আবদুল ওয়াদুদ, সাংসদ জেবুন্নেছা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, কৃষিসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সচিব শাহকামাল।

LEAVE A REPLY