গাইবান্ধায় সাঁওতালদের ওপর পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে সাঁওতালদের জানমালের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোন কর্তৃত্ববলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি চালিয়েছে-এই প্রশ্নেও রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

বুধবার আইন ও সালিশ কেন্দ্র, অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এবং ব্রতী সমাজকল্যাণ সংস্থা এই  তিনটি সংগঠন সাঁওতালদের পক্ষে হাইকোর্ট বিভাগে এই রিট দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের আইজি, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও সাহেবগঞ্জ সুগারমিলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের ডিভিশন বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে ।

হামলার শিকার সাঁওতালদের জানমাল রক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, রিটে এই মর্মে রুল জারির নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে রিটে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া সাঁওতাল পল্লীর অধিবাসীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

রিটে বলা হয়, সাঁওতালরা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা নিতান্তই অসহায়। এতটাই অসহায় যে তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। সাঁওতালদের পূর্ব পুরুষরা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। আজ  তাদেরকেই ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
রিটকারীর পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জে আই খান পান্না বলেন, বিশেষ কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির ইন্ধনে সংখ্যালঘু সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদেরকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেয়া যাবে না। তাদের জানমালের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে হবে।

 

উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাহেবগঞ্জ আখের খামার এলাকার সাঁওতাল পল্লী পুলিশের হামলায় তিনজন নিহত হয়। আহত হয় আরও অন্তত: ৩০ জন।

LEAVE A REPLY