সোসাইটিনিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকেরা একটি বিশেষ পদ্ধতিতে গোলাঘরে বীজ সংরক্ষণ করেন। খুব অল্প খরচে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় এবং বীজের গুণগত মানেরও কোনো ক্ষতি হয় না। এ পদ্ধতির মাধ্যমে কোনোপ্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার না করে বীজ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

  • গোলা ঘরে বীজ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া : গোলাঘরের আর্দ্রতা রোধ এবং পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হতে রক্ষার জন্য মাটি থেকে এক-দেড় ফুট উচুতে ৬ থেকে ৮টি পিলারের মতো গোল মোটা কাঠ বা গাছের গুঁড়ির ওপর পাটাতন বানিয়ে তার ওপর এই গোলাঘর তৈরি করতে হবে।পিছনে আড়াআড়ি কয়েকটি কাঠের তক্তা পেতে বাঁশের খন্ড দিয়ে গোলাঘরের পাটাতন তৈরি করতে হবে।

গোবর ও ধানের তুষ মিশিয়ে পাটাতনের মেঝেতে এমনভাবে প্রলেপ দিতে হবে যেন পাটাতনের নীচ দিয়ে বাতাস ঢুকে গোলা ঘরের সংরক্ষিত শস্য নষ্ট করতে না পারে ।পাটাতন শক্ত ও মজবুত করার জন্য কাঁচা গাব ফলের কষ দিয়ে লেপে দিতে হবে। এটা একটি বিশেষ কায়দায় তৈরি করা হয়। প্রথমে কাঁচা গাব ছেঁচে পানিতে একদিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর গাব মিশ্রিত পানি দিয়ে  পাটাতনে প্রলেপ দিলে পাটাতন মজবুত হয় এবং পোকামাকড়ের আক্রমন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এরপর পাটাতনের ওপর বাঁশের চাটাই দিয়ে গোলা ঘরের জন্য গোলাকার বেড়া তৈরি করতে হবে।গোলাঘরের চালের ছাউনি হিসেবে ধানের খড়, নাড়া অথবা গোলপাতা ব্যবহার করতে হবে।ছাউনির মাথার একটি পাত্র এমনভাবে রাখতে হবে যেন ঝড় বা বাতাসে গোলঘরের ছাউনি উড়ে না যায়।সাধারণত একটি গোলাঘরের উচ্চতা ৮-৯ ফুট, নিচের অংশের দৈর্ঘ্য ৮-১০ ফুট এবং প্রস্থ ৯-১২ ফুট হয়ে থাকে।

  • ফসল সংরক্ষণ :- সারা বছরের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ধান গোলায় খোলা অবস্থায় রাখা হয়। আর বীজ ধান রাখা হয় বস্তায় ভরে। গোলাঘরের নীচে পাটাতনের ফাঁকা জায়গায় ওল, মুখিকচু ও হলুদসহ নানা ধরণের কন্দাল ফসল বীজ সংরক্ষণ করা হয়।
  • সতর্কতা :- গোলায় সংরক্ষিত ফসল বীজ মাঝে মধ্যে বের করে রোদে শুকাতে হয়।
  • উপকারিতা :- গোলা ঘরে ধান বীজ রাখলে বীজ ভালো থাকে। শোবার ঘরে ধান রাখলে ইঁদুর ও সাপের প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই গোলাঘরে বীজ সংরক্ষণ নিরাপদ।
    সূত্র: কৃষি প্রতিক্ষণ