সোসাইটিনিউজ ডেস্ক:
রংপুর জেলায় অনেক রসালো, আঁশহীন ও মিষ্টি জাতের হাড়িবাঙ্গা আম থেকে বাণিজ্যিকভাবে জুস তৈরির জন্য স্থানীয় প্রাইভেট শিল্প গ্রুপ একটি আধুনিক কারখানা তৈরি করছে।

রংপুর ভিত্তিক সোনিক প্রাইম গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান প্রাইম পুষ্টি লিমিটেড জুস তৈরির এই উদ্যোগ নিয়েছে।

এ অঞ্চলে জনপ্রিয় হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ ক্রমশ: বৃদ্ধি, বাম্পার উৎপাদন এবং স্থানীয় বাজার ও বাহিরে এই আমের বেশ চাহিদা থাকার কারণে এখানে জুস তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সনিক প্রাইম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ড. আক্কাছ আলী সরকার জানান, জেলার সদর উপজেলার মমিনপুর এলাকায় কারখানা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য চীন থেকে সর্বশেষ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিগগির আমরা জুস তৈরির কাজ শুরু করব। হাড়িভাঙ্গা আম থেকে আন্তর্জাতিক মানের পুষ্টিকর জুস তৈরি করা হবে এবং শুরুতে দেশে ও ভবিষ্যতে দেশের বাহিরে রফতানি করা হবে।

চমৎকার স্বাদ ও ফ্লেভারের কারণে হাড়িভাঙ্গা আমের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে প্রফেসর আক্কাছ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেঁ বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এর জুসও অনেক জনপ্রিয় হবে।

তিনি বলেন, হাড়িভাঙ্গা আমের জুস দিয়ে কারখানার কাজ শুরু হলেও এই কারখানায় রংপুর অঞ্চলে উৎপাদিত আনারস, লিচু, কলা, স্ট্রবেরি, লটকন, পেয়ারা, পেঁপে ও লেবু ব্যবহার করে অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীও প্রস্তুত করা হবে।

রংপুর চেম্বার অব কমার্স আ্যান্ড ইন্ড্রাষ্টির সভাপতি আবুল কাসেম সোনিক প্রাইম গ্রুপের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তারাই প্রথম আমভিত্তিক জুস তৈরির কারখানা স্থাপনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে অন্যান্য ফল ব্যবহার করে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি করারও সুবিধা রয়েছে।

তিনি বলেন, এই কারখানা শুধুমাত্র উচ্চ গুণগতমান সম্পন্ন আমের জুসই তৈরি করে না, এত অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানও হবে। পাশাপাশি হাড়িভাঙ্গা আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং কৃষকেরা এই আম চাষে আরো উদ্ধেুদ্ব হবেন।

পদাগঞ্জ এলাকার সফল আম চাষি গোলাম মোস্তফা, আখিরার হাটের আবদুস সালাম ও পাইকারের হাট গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, আমের জুস তৈরির এই কারখানা তাদেরকে আরো বেশি করে হাড়িভাঙ্গা আম উৎপাদনে উৎসাহিত করবে এবং তারা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হার্টকালচার বিশেষজ্ঞ খোন্দকার মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন, আমের জুস তৈরির কারখানা স্থাপিত হলে হাড়িভাঙ্গা আমের উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে।

তিনি বলেন, এই কারখানাকে উপলক্ষ করে এখানে বানিজ্যিক ভিত্তিতে হাড়িভাঙ্গা আমের চাষ বেড়ে যাবে এবং প্রতি বছর শত শত কৃষক  হতে পারবেন। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রসিদ্ধ এই আম বিদেশে রফতানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

ডিএই সুত্র জানায়, গত মৌসুমে ছয় হাজার ২৫০ জনেরও বেশি কৃষক চার হাজার ২৫০টি ছোট, মাঝারি ও বড় বাগান ও বাড়ির আশেপাশে মোট দুই হাজার তিনশ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করেন। এতে এ জেলায় দুই হাজার চারশ’ টনেরও বেশি আম উৎপাদিত হয়, যার বিক্রয় মূল্য দুইশ’ কোটি টাকা।
সূত্র: বাসস