নিজস্ব প্রতিনিধি
জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খাবারের দোকান ‘বটতলার’ ভাতের পাতে জমে উঠেছে হরেক রকমের ভর্তার সমাহার। শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাতমুখ ধুয়ে বটতলায় (খাবারের স্থান) গরম ভাতের পাতে হরেক রকমের ভর্তা- ধনে পাতা, পেঁপে, বাদাম, সরিষা, শিম, কালিজিরা, বেগুন, ভেন্ডি, টমেটো, আলু, লাউশাক, কলা, কচু, রসুন ভর্তা, ডাল ভর্তা, ডিম ভর্তা।

এছাড়াও রয়েছে ইলিশ মাছের ভর্তা, শুঁটকি মাছের ভর্তা, চিংড়ি মাছের ভর্তা, টাকি মাছের ভর্তা, রুই মাছের ভর্তা, শুনেই জিভে পানি চলে আসে।

প্রতিদিন সকাল, দুপুড়, রাত তিনবেলাই বটতলায় খাবার বিক্রেতা মামাদের ডাকাডাকি করতে থাকেন।  বলতে থাকেন-এই যে মামারা চলে আসুন ভর্তা দিয়ে মন মাতিয়ে দিবো, দিবো অন্যরকম স্বাদ, এরকম ভর্তা আর কোথাও পাবেন না।

প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০টি খাবারের দোকানে হরেক রকমের এসব সুস্বাদু ভর্তা বিক্রি করা হয়। এখানকার ভর্তা যেমন সুস্বাদু তেমনি রয়েছে স্বাস্থগুনও। প্রতি ভর্তার দাম মাত্র ৫ টাকা। ৫টাকা করে দাম দিয়ে আপনি অত্যন্ত ৩০-৩৩ প্রকারের ভর্তা খেতে পারবেন।

জাবিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিবেলা ভাতের পাতে ভর্তা না নিলে মনে হয় ভাত হজম হয় না। প্রতিবেলা ভাতের পাতে ভর্তা লাগবেই, ভর্তার স্বাদ চাইই, চাই। এখানে রয়েছে এসব বাহারি ভর্তা।

শিক্ষার্থী ছাড়াও, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবুজে ঘেরা এই লীলাভূমিতে ছুটির দিনে ঘুরতে আসা বাহিরের দর্শনার্থীরাও একবারের জন্য হলেও এখান থেকে ভর্তা খাওয়ার পিপাসা মেটান। স্থানীয়রা সময় পেলেই চলে আসেন ঘুরতে। না হলে তাদের এ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসাটা যেন সার্থক হয় না।

জাহাঙ্গীরনগর ঘুরতে এসেছে অথচ বটতলায় ভর্তা খাননি এমন লোক হয়ত খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

বটতলার দোকানদার সাত্তার বলেন, আমরা সবসময় যত্ন সহকারে এসব ভর্তা তৈরি করি। ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীসহ ঘুরতে আসা সবাই ভর্তা খেতে চায়। ভর্তাতে লাভ-লোকসানের কথা চিন্তা না করে কাস্টমারের কথাই বেশি চিন্তা করি। কেননা, ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে ভিড় নামে দর্শণার্থীদের।

বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বল্প মূল্যে খাবারের একমাত্র জায়গা হচ্ছে হলের ক্যান্টিন অথবা ডাইনিং। কিন্তু ব্যতিক্রম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে হলের ক্যান্টিন ছাড়াও বটতলাতে স্বল্প মূল্যে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।

দেখা যায়, ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসের বটতলায় খাবারের দোকানে একটু বেশি করে আয়োজন করা হয় হরেক রকমের ভর্তার। কেননা ছুটির দিনগুলোতে ক্যাম্পাসে ভিড় নামে অতিথিদের।

LEAVE A REPLY