রাজশাহী-ঢাকা পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা নেই ট্রেনে

সোসাইটিনিউজ ডেস্ক:
রাজশাহী থেকে ঢাকায় ট্রেনের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা নেই। পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয় এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ীরা ট্রেনে পণ্য পরিবহন না করে বেসরকারিভাবেই তা করছেন। এর ফলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে গ্রাহক হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে সিল্কিসিটি, ধূমকেতু ও পদ্মা এক্সপ্রেস নামের তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন এসব ট্রেনে ধারণক্ষমতার তিনগুণ থেকে চারগুণ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু এসব ট্রেনে পণ্য পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা নেই।

এ ছাড়া রাজশাহী থেকে চিলাহাটি ও নীলফামারীগামী তিতুমীর ও বরেন্দ্র এবং খুলনাগামী সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো ধরনের স্টপেজ নেই। যাত্রা শুরুতে পণ্য বুকিং করে যাত্রা শেষে পণ্য খালাস করতে হয়।

এ ছাড়া এসব ট্রেনে পণ্য পরিবহন অনেক ব্যয়বহুল। রাজশাহী থেকে চলাচলকৃত লোকাল ও মেইল ট্রেনে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা আছে। এসব ট্রেনের মধ্যে মহানন্দা ও ৬ ডাউনে বেসরকারিভাবে মালামাল বুকিং হয়। উত্তরা ট্রেনে সরকারিভাবে মালামাল বুকিং হয়।

রাজশাহীর রেলওয়ের পার্শ্বেল অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা, চিলাহাটি ও নীলফামারীগামী ট্রেনে ফার্মেসির কিছু ওষুধপত্র ও বোর্ডের পরীক্ষার খাতাপত্র বিলি-বণ্টন করা হয়। এ ছাড়া মেইল ও লোকাল ট্রেনে সব ধরনের পণ্যই পরিবহন করা হয়। মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও অন্যান্য আসবাবপত্র গ্রাহকরা চাইলেও ব্যয়বহুলের কারণে তা পরিবহন করতে পারেন না।

বেসরকারিভাবে পণ্য পরিবহনের জন্য একটি মোটরসাইকেলের জন্য রংপুর পাঠাতে খরচ হয় ১২০০ টাকা, তাহলে ট্রেনে ওই পণ্য পরিবহন করতে খরচ হবে ৫ হাজার টাকা। এজন্য গ্রাহকরা ট্রেনের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করেন না। ফলে বেশিরভাগ মেইল ও লোকাল ট্রেনের গাড়িগুলো ফাঁকা যায়। আন্তঃনগর ট্রেনেও মালামাল বুকিং হয় না বললেই চলে। এর ফলে বাধ্য হয়ে শ্রমিক ছাটাই করতে হয়েছে রেলওয়েকে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের কুলির সর্দার বজলুর রহমান বলেন, আগে রাজশাহীতে মালামাল উঠানো-নামানোর জন্য গড়ে ৪০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। এখন মাত্র ৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। কাজই নেই, শ্রমিক এসে কী করবে।

রাজশাহী রেলওয়ের পার্শ্বেল শাখার প্রধান সহকারী হাসিবুল হাসান বলেন, পণ্য পরিবহন হয় না বললেই চলে। মাসে গড়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ৮০ হাজার টাকার মতো রাজস্ব আয় হয় পণ্য পরিবহন করে।

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী কামাল বলেন, ঢাকার ট্রেনে যদি পণ্য পরিবহনের জন্য ল্যাগেজ ভ্যান থাকে তাহলে অনেকেই ঢাকায় পণ্য পরিবহন করতে পারবেন। এর ফলে ঢাকার বাজারে টাটকা সবজি ও ফলমূল সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ট্রাকে করে নিয়ে গেলে ওইসব পণ্য ঝাঁকি খেয়ে নষ্ট হয়ে যায়। ট্রেনে গেলে নষ্ট হবার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, রাজশাহী থেকে ট্রেনে পণ্য পরিবহনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কন্টিনাল স্টেশন স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হলে বিভিন্ন  ধরনের ফলমূল ও কাঁচা শাকসবজি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। পণ্য পরিবহনের সুবিধা থাকলে নিজেদের ব্যক্তিগত অনেক মালামালও যাত্রীরা পরিবহন করতে পারবেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার মিহির কান্তি গুহ বলেন, আন্তঃনগর ট্রেনে পার্শ্বেলের ব্যবস্থা ঠিক সেইভাবে নেই। বিশেষ করে আন্তঃনগর ট্রেনে মালামাল লোডিং-আনলোডিং করা অনেক কষ্টকর ব্যাপার। আন্তঃনগর ট্রেনে তা সম্ভব না। এ ছাড়া সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটার কারণে গ্রাহকদের মালামাল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাচ্ছে। যা ট্রেনের পক্ষে সম্ভব না। এর বাইরে মেইল ও লোকাল ট্রেনে অবশ্য পণ্য পরিবহন করা হয়।

ঢাকাগামী ট্রেনের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকার কোচগুলো ইন্দোনেশিয়া ও ভারত থেকে আনা। ফলে ওই কোচগুলোতে ভ্যান লাগেজ যুক্ত করার বিষয়ে কারিগরি ত্রুটি আছে। আর ওই কোচগুলোও ভ্যান লাগেজ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ পানি পড়লে ওই কোচ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তারপরও আলোচনা চলছে ঢাকার ট্রেনে পণ্য পরিবহনের জন্য।

 

LEAVE A REPLY