সোসাইটিনিউজ ডেস্ক: বর্ষা থেকে হেমন্ত পর্যন্ত সময়ে চাষযোগ্য সম্ভাবনাময় বৃহদাকার ছাতার মতো একটি সুস্বাদু মাশরুমের চমৎকার ফলন লাভ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক আনোয়ার হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. আবুল খায়েরের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি করছেন। বিশাল আকৃতির এই মাশরুমটি ট্রাইকোলোমাটেসি (Tricholomataceae) পরিবারভুক্ত একটি সুস্বাদু মাশরুম। মাশরুমটির উদ্ভিদতাত্তি্বক নাম লিউকোপ্যাক্সিলাস জাইগ্যানসিয়াস (Leucopaxillus giganteus) ।

গবেষক আনোয়ার হোসেনের গবেষণার বিষয় বাংলাদেশের রাঙামাটির পার্বত্য অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো বিভিন্নরকম মাশরুম শনাক্তকরণ। মাশরুমের প্রতি বিশেষ অনুরাগ থাকাতে নিজের আবাসভূমির পাশেই নিজ অর্থায়নে গড়ে তুলেছেন সম্ভাবনাময় মাশরুম স্পন (বীজ) উৎপাদনের জন্য ল্যাবরেটরি এবং মৌসুমি মাশরুম উৎপাদনের জন্য মাশরুম গ্রিন হাউস।

দীর্ঘ তিন বছর ধরে গবেষণার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই ইথনো অ্যাগ্রো সার্ভিসেস ফার্মের নীল পলিথিন নির্মিত গ্রিন হাউসে এ মাশরুম ফলাতে সক্ষম হন তিনি।মাশরুমটি প্রাইমর্ডিয়া বা কুঁড়ি অবস্থায় লালচে বাদামি, পরে ক্রমেই ক্রিম-সাদা রঙ ধারণ করে। মাশরুমের ছাতাটির ব্যাস ১০ থেকে ৩৫ সেমি, এর স্টাইপ বা ছাতার দ- ৭ থেকে ১০ সেমি এবং প্রস্থে ১ থেকে ১.৫ সেমি হয়ে থাকে।

ছাতা বা পাইলিয়াস প্রথমে চোঙ্গাকার পরে পেয়ালাকৃতির এবং পরিণত দশায় ছত্রাকার এবং প্রান্ত বরাবর প্রায় সমান্তরাল, কিনারা সামান্য বাঁকানো, মসৃণ ত্বকযুক্ত। ছাতার নিচে গিল প্রথমে দুধ-সাদা এবং পরিণত অবস্থায় হালকা বাদামি বর্ণের সংমিশ্রণ ঘটে। স্টাইপ বা ছাতার দ-টি লালচে-বাদামি বর্ণের সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়। একটি পরিণত মাশরুম নিশ্চিত আপনাকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করবে। তবে ছাতার কেন্দ্রে কাপ বা পেয়ালার মতো গর্ত আছে। অর্থাৎ যা পেয়ালা তাই ছাতা। এ জন্যই আমাদের আদিবাসীরা এ মাশরুমকে পেয়ালা-ছাতা মাশরুম বলে। তাইওয়ান, চীন, ভিয়েতনাম এবং ফিলিপাইনে মাশরুমটি কাপ-আমব্রেলা মাশরুম নামে পরিচিত।

পুষ্টিগুণের বিষয়ে তিনি বলেন পেয়ালাকৃতির এই মাশরুমে পর্যাপ্ত আমিষ, চর্বি, অাঁশ, শর্করা, ভিটামিন, ফেনল, এন্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ফ্লেবনয়েড থাকে। মাশরুমটির অন্যতম বিশেষত্ত্ব হচ্ছে এর মধ্যে থাকা ক্লাইটোসিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক। এ পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়_ এই ক্লাইটোসাইবিন আমাদের পৌষ্টিক তন্ত্র, শাস-তন্ত্র এবং জরায়ুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে। প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা বলছেন, যাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি, তারা এ মাশরুমকে খাদ্য তালিকায় রেখে অনেকটা নিরাপদ থাকতে পারেন। মাশরুমটিতে বিশেষ কোনো ফ্লেবার না থাকাতে যে কেউ এটিকে সহজেই তার খাদ্য তালিকায় স্থান দিতে পারেন।

আনোয়ার হোসেনের গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক প্রফেসর ড. আবুল খায়ের বলেন, মাশরুমটিতে থাকা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। বাজারের বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের সঙ্গে এর প্রধান দুটি পার্থক্য হচ্ছে এটি অত্যন্ত অল্প পরিমাণে আমাদের প্রাকৃতিক ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে কাজ করে দেহে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে এবং বাজারে অ্যান্টিবায়োটিকের মতো এটি কখনো রেজিস্ট্যান্ট হয় না।
সূত্র: কৃষি প্রতিক্ষণ

LEAVE A REPLY