সিলেটে নিজের মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক বাবা ও মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে- এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ভিডিওতে অভিযুক্ত বাবাকে দেখানোর সাথে সাথে দেখানো হয়েছে ভিকটিম মেয়েটির ছবিও। প্রায় সাড়ে ৪ মিনিট ব্যাপ্তির ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, থানায় পাশাপাশি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে মামলার বাদি তরুণী এবং তাকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত বাবা ইলিয়াস মিয়াকে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্ন করছেন অন্তত দুই জন পুলিশ সদস্য, যদিও তাদের ভিডিওতে দেখা যায়নি।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) রাত থেকেই এ ভিডিও ছড়িয়ে গেছে ফেসবুকে। হয়েছে হাজার হাজার শেয়ার।

নিয়ম অনুযায়ী ধর্ষিত বা যৌন হয়রানির শিকার নারীর ছবি প্রকাশে আইনী বাধা থাকলেও ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে অভিযুক্ত বাবার পাশাপাশি অভিযোগকারী মেয়ের ছবিও স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায় ভিকটিম নারিটি পুলিশের প্রশ্নের জবাবে বলছেন, এর আগেও তার বাবা তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু তিনি তাতে সাড়া দেননি। ঘটনার দিন ইলিয়াস মিয়া নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে হোটেলে ওঠেন এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওতে অভিযুক্ত ইলিয়াস মিয়াও নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, মেয়ে একবার তার মামার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং সেই ক্ষোভ থেকে তিনি এমন ঘটনা ঘটান।

হয়রানির শিকার নারীর চেহারাসহ ভিডিওটি কিভাবে থানা থেকে বাইরে প্রকাশ হলো- এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুহেল আহমদ বলেন, মেয়েটিকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তিনি তার বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কিন্তু থানা থেকে কোনো ভিডিও প্রকাশ হয়েছে বলে আমি জানি না।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) চিকিৎসার কথা বলে মেয়েকে শহরে এনে সিলেট নগরীর এক আবাসিক হোটেল তোলেন পিতা ইলিয়াস মিয়া। হোটেল কক্ষেই অষ্টাদশী মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এসময় মেয়েটির চিৎকারে হোটেল ব্যবস্থাপকসহ অন্যরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন। সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযুক্ত পিতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ইলিয়াস মিয়াকে আটকের পর পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সিলেটের মোগলাবাজার থানার মোকামদোয়ার গ্রামের ইলিয়াস মিয়া মোট ছয়টি বিয়ে করেছেন। তার ৪ স্ত্রী মারা গেছেন ও ২ জন জীবিত আছেন।

LEAVE A REPLY