অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক ফোরামের (জিএফএমডি) নবম সম্মেলন আগামী ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অভিবাসন ও শরণার্থী সংকট, এর ফলে সৃষ্ট উন্নয়নের অন্তরায়, যোগাযোগ, পরিবেশ, সমন্বিতকরণ নিয়ে আলোচনা করবেন ও সংকট নিরসনের পথ নির্দেশনা দেবেন।

সরকারি প্রতিনিধির বাইরে সুশীল সমাজ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও এই প্রথম বৈশ্বিক অভিবাসন ফোরামে যুক্ত হচ্ছেন। জিএফএমডিতে ৭৩টি দেশ ও ২৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রায় ৩০০ সরকারি ও আড়াইশ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি যোগ দেবেন। ২০টি দেশের মন্ত্রী পর্যয়ের প্রতিনিধিত্বও থাকবে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এত বড় আয়োজন অতীতে হয়নি। সাড়ে পাঁচশ বিদেশি অতিথি অভিবাসন সম্মেলনে যোগ দিবেন। পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বুধবার বিকালে এক সংবাদিক সম্মলনে জিএফএমডি আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে জিএফএমডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। ২০০৭ সালে বেলজিয়ামে প্রথম জিএফএমডি যাত্রা শুরু করে। অভিবাসন, শরণার্থী সংকট ইস্যুতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকার কারণে বাংলাদেশ এবার আয়োজক হতে পেরেছে। এটা বড় অর্জন। এবারে প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘সবার জন্য টেকসই উন্নয়নে অভিবাসন কাজ করে : পরিবর্তনশীল অভিবাসন এজেন্ডাই লক্ষ্য’। গত বছর ইউরোপ জুড়ে সৃষ্ট শরণার্থী সংকটের প্রেক্ষাপটে ঢাকা সম্মেলন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

যুদ্ধ ও অন্যান্য কারণে শরণার্থী ও অভিবাসীর সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। ফলে ইস্যুটি গুরুত্ব পাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এটি বড় ইস্যু।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ ডিসেম্বর সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জিএফএমডি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। তিনদিনের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে অভিবাসনের সুশাসন, শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা, ব্যয় হ্রাস, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগের কারণে সৃষ্ট সংকট, নিরাপদ ও নিয়মসিদ্ধ অভিবাসন প্রভৃতি ইস্যুতে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা যোগ দিবেন। বিভিন্ন দেশের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা ৮ ও ৯ ডিসেম্বর পৃথক সম্মেলন করবেন।

LEAVE A REPLY