নিউজ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রবিবার হাঙ্গেরি যাচ্ছেন। সেখানে তিনি ২৮-৩০ নবেম্বর বুদাপেস্ট ওয়াটার সামিটে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া হাঙ্গেরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটাই প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। হাঙ্গেরি সফরকালে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাঙ্গেরি সফর উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৮-৩০ নবেম্বর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে অনুষ্ঠিতব্য বুদাপেস্ট ওয়াটার সামিটে অংশগ্রহণ করবেন। হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ড. ইয়োনস আদের এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ওয়াটার সামিটে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দুই দেশ এ সফরকে দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ-হাঙ্গেরি বিজনেস ইকোনমিক ফোরামের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে গঠিত পানি বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন সম্মানিত সদস্য। এ প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন মরিশাস, মেক্সিকো, হাঙ্গেরি, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাজিকিস্তান, পেরু ও সেনেগালের রাষ্ট্রপতি। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীও এই প্যানেলের সদস্য।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তাদানকারী এবং স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দেশগুলোর মধ্যে হাঙ্গেরি অন্যতম। এছাড়া ইউরোপীয় দেশসমূহের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, বহুমাত্রিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার হাঙ্গেরির সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নবায়ন, গভীরতর ও বিস্তৃত করতে আগ্রহী। এই প্রেক্ষিতে আগামী ২৯-৩০ নবেম্বর প্রধানমন্ত্রীর হাঙ্গেরি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া এটি দু’দেশের মধ্যে সরকার প্রধান পর্যায়ের প্রথম দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফর। স্বাধীনতার পর হাঙ্গেরির সাথে বাংলাদেশর সম্পর্ক গভীর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ছিল, ফলস্বরূপ এ সময় তিনটি চুক্তি সম্পন্ন হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্থবিরতা নেমে আসে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে হাঙ্গেরির সাথে সম্পর্ক নবায়ন ও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাঙ্গেরি সফরকালে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে পরামর্শ সভা, পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা, কৃষিক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও দুই দেশের চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে ব্যবসাবাণিজ্য বিষয়ক সমঝোতা স্মারক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বুদাপেস্ট ওয়াটার সামিটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পানির টেকসই ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা, পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার, টেকসই ব্যবস্থাপনা ও সকলের জন্য বিশুদ্ধ সুপেয় পানির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পরিবেশবান্ধব কৃষিসেচ ব্যবস্থাপনা ও পানিদূষণ সহনশীল মাত্রায় নামিয়ে আনার বিষয়ে বর্তমান সরকারের কর্মকা- ও সাফল্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। এই দ্বিপাক্ষিক সফর দু’দেশের সম্পর্ক নতুনমাত্রা প্রদান করবে। বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অধিকতর উজ্জ্বল করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

LEAVE A REPLY