রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমে মিয়ানমারে মুসলিম নিধনযজ্ঞ,রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নৃশংস নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে এ দাবি করা হয়।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজনে সমাবেশে বক্তরা সরকারের উদ্দেশে বলেন, ১৯৭১ সালের মক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় না দিলে ১০০ বছরেও আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। ভারতের মত আজকেও বর্ডার খুলে দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বরনার্থী হিসেবে আশ্রয় দিন।

এসময় তারা ওআইসি ভেঙে দিয়ে মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করে আরাকানের মুসলমানদের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার দাবি জানান।

সরকারের উদ্দেশে তারা বলেন, মিয়ানমারে মুসলমানদের ওপর যেভাবে গণহত্যা চালাচ্ছে তাতে বিশ্বের কোনো মুসলমান চুপ থাকতে পারে না। বর্ডার খুলে দিয়ে তাদের আশ্রয় দিন। ওআইসি, জাতিসংঘসহ বিশ্ব মুসলিম নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আরাকান রাজ্যে তাদের বাসবাসের ব্যবস্থা করুন।

অনতিবিলম্বে সরকারিভাবে হস্তক্ষেপ করে এই গণহত্যা বন্ধের ব্যবস্থা করার দাবি জানান মাওলানা নূর হোসেন কাসেমী।

তিনি বলেন, কোনো মুসলিম জনপদ আক্রান্ত হলে পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশের ওপর জিহাদ ফরজে আইন হয়। শিগগিরই ওআইসি ভেঙে দিয়ে মুসলিম জাতিসংঘ গঠন করে আরাকানের  ‍মুসলমানদের পক্ষে জনমত গড়ে তুলুন।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্যাতিত এ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিন। প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি জেলখানা তৈরি করুন। জেলখানা তৈরির অর্থ সরকারের না থাকলে হেফজাত ইসলাম অর্থের ব্যবস্থা করবে। হেফাজতের কর্মীরা তাদের জন্য নিজেদের সমুদয় সম্পত্তি উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।

হেফাজত ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর আহ্বানে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগরের সভাপতি মাওলানা নূর হোসেন কাসেমী।

এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ, মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মুফতি মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা মহিউদ্দিন একরাম, মাওলানা যোবায়ের আহমেদ, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান আলমগীর প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকররম দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা মোড়  ঘুরে আবার দক্ষিণে গেটে শেষ।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY