ফেসবুকে ধর্ম অবমাননাকর যে ছবিটি পোস্ট দেওয়া হয় তা রসরাজ দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে করা হয়নি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) রিপোর্টে এমন তথ্যই মিলেছে। একই সঙ্গে আল-আমিন সাইবার পয়েন্ট ও স্টুডিও থেকে জব্দ করা কম্পিউটার থেকেও ছবি পোস্টের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

এ-সংক্রান্ত রিপোর্ট গতকাল সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের কাছে এসে পৌঁছে। ফেসবুকে ছবি পোস্টের তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন নিশ্চিত করেন। সাইবার পয়েন্ট থেকে ছবি পোস্ট হয়েছে কি না এর তদন্ত রিপোর্টের বিষয়ে কথা বলেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া। তবে পোস্টটি কে বা কারা করেছে কিংবা কোথা থেকে করা হয় সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনায় লোকজন জড়ো করতে দুটি ট্রাক ভাড়া করেন যুবদল নেতা মো. বিল্লাল মিয়া। এ ছাড়া তিনি নিজের একটি ট্রাক্টরে করে লোকজন আনেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্ম অবমাননার অভিযোগের প্রতিবাদে হওয়া সমাবেশেও অংশ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গতকাল দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ কথা স্বীকার করেছেন বিল্লাল মিয়া। জবানবন্দিতে বিল্লাল মিয়া জানিয়েছেন, ইমানি দায়িত্ব পালনের তাগিদ থেকেই তিনি এসব করেছেন।

এ জবানবন্দির মধ্য দিয়ে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে গেল। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির অনেকেই জড়িত বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় নাসিরনগরের তিন আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ।

সমাবেশে লোক নিয়ে আসা দুই ট্রাকচালকের দেওয়া জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের এক চেয়ারম্যান ও তাঁর সমর্থকদের নাম উঠে আসে। তাঁরা ট্রাক ভাড়া করার পাশাপাশি টাকা পরিশোধ করেন বলে চালকরা জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। যদিও ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে হামলার ঘটনায় মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে পাঁচজনকে খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ। তাদের বিষয়ে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে ওই পাঁচজন কারা এ বিষয়ে পুলিশ মুখ খুলছে না। হামলার ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের রসরাজ দাসের ফেসবুক আইডি থেকে ধর্ম অবমাননাকর ছবি পোস্ট করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে রসরাজ ছবিটি দেননি বলে ক্ষমা চেয়ে একটি পোস্ট দেন। ২৯ অক্টোবর পুলিশ রসরাজকে গ্রেপ্তার করে। ৩০ অক্টোবর ধর্ম অবমাননার প্রতিবাদে নাসিরনগর সদরে হওয়া সমাবেশ থেকে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, হরিপুরের আল-আমিন সাইবার পয়েন্ট ও স্টুডিও থেকে এ ধরনের ছবি পোস্ট করা হয়েছে।

পুলিশ রসরাজকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ছবি পোস্টের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। রসরাজের মতো ‘অশিক্ষিত’ ছেলের পক্ষে এভাবে ছবি এডিট করা সম্ভব নয় বলেও বিভিন্ন মহল থেকে জোর দাবি ওঠে। পুলিশ রসরাজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সাইবার পয়েন্টের কম্পিউটার ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ জব্দ করে বিশেষজ্ঞদলের কাছে পাঠায়। রসরাজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। রসরাজ বর্তমানে জেলহাজতে আছেন।

LEAVE A REPLY