আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আফ্রিকার দক্ষিণ সুদানে ব্যাপক জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলছে। সেখানে বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ ও বিভিন্ন গ্রামে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। অনাহারে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন অনেকে। বুধবার দক্ষিণ সুদান সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দেশটির এমন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন তারা। ১০ দিনের সফরে তারা দেশটিতে যান। খবর আল জাজিরা।

সামগ্রিক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রতিনিধি দলের চেয়ারওম্যান ইয়াসমিন সুকা। তিনি বলেন, সাউথ সুদানের ৬৪টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলছে। বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ ও বিভিন্ন গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এটা করা হচ্ছে। অনাহারে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন অনেকে। এর আগে রুয়ান্ডাতেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব রয়েছে।

২০১১ সালের ৯ জুলাই সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে পৃথিবীর দক্ষিণ সুদান। স্বাধীনতা লাভের পরও দেশটিতে শান্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. রিয়েক মাচারের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সালভা কির ডিঙ্কা গোত্রের। রিয়েক মাচার নুয়ের গোত্রের। প্রেনিডেন্ট সালভা কির ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। এরপর তাদের উভয়ের অনুগতদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই রক্তক্ষয়ী, ভয়াবহ ও নৃশংস গোত্র সংঘাত। প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা সালভা কিরের সমর্থনে তাদের সেনাবাহিনী পাঠায়। এই সংঘাতে ২১ জন উগান্ডান সেনা, ৫ জন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী সদস্যসহ দক্ষিণ সুদানের প্রায় ৩ লাখ লোক মারা যায়। ১০ লাখ লোক ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে পড়েন এবং ৪ লাখ লোক পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পালিয়ে যান। শুরু হয় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়।

২০১৫ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক চাপ ও মধ্যস্থতায় প্রতিবেশী দেশ ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই মধ্যস্থতায় আফ্রিকান ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, চীন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের মার্চে ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচার দেশে ফিরে আসেন শান্তির আশা জাগিয়ে। কিন্তু জুলাই ২০১৬ সালে আবার তাঁর দেহরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সালভা কিরের অনুগত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৩০০ লোকের প্রাণহানি হয়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর ২ জন চীনা সেনাও এই সংঘাতে নিহত হন। নতুনভাবে বহু লোক ঘর বাড়ি হারায় ও উদ্বাস্তু হয়ে যায়। ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচার তার অনুসারীদের নিয়ে প্রতিবেশী দেশ কঙ্গোয় পালিয়ে যান। এরপর পুনরায় সুদানে গিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

LEAVE A REPLY