আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে জেনারেল জেমস ম্যাটিসকেই বেছে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নব-নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে জেমস ম্যাটিস-ই যে তার প্রথম পছন্দ তা বৃহস্পতিবার ওহিও-তে সমর্থকদের এক র‌্যালিতে ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তার মতে, তিনি (ম্যাটিস) আমার সেরা পছন্দ।

জেনারেল ম্যাটিস ‘ম্যাড ডগ’ হিসেবেই পরিচিত। তিনি ওবামা প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির কঠোর সমালোচক।

ম্যাটিস ইরানের ঘোরতর সমালোচনা করে নানান সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তার মতে, ইরান হলো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিশৃঙ্খলার জন্য স্থায়ী হুমকি।

যে কোনো সফল মানুষের মতো প্রশংসা-নিন্দা দুই-ই পেয়েছেন ম্যাটিস। ২০১০-২০১৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল ছিলেন তিনি। বারাক ওবামাই তাকে নিয়োগ করেন। এর আগে সামরিক বাহিনীতে ছিলেন ৪৪ বছর। ২০০১ সালে দক্ষিণ আফগানিস্তানের অভিযানে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় মেরিনস-এ কর্মরত ছিলেন।

একদল সহকর্মীর মতে, ম্যাটিস অসমসাহসী যোদ্ধা। রণাঙ্গনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করতেন তিনি। হাতের নিশানা অব্যর্থ। প্রখর প্রত্যুৎপন্নমতি, রণকৌশল ঠিক করতেন নিখুঁতভাবে।

২০০৫ সালে ইরাকের ফালুজায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লড়েছেন ম্যাটিস। চরম আগ্রাসী সেনাপতির অভিধানে ‘পিছু হঠা’ বলে কোনো শব্দবন্ধ নেই। আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরানোর ওবামা সরকারের সিদ্ধান্ত তার পছন্দ হয়নি। রাখঢাক না করে সে কথা বলেও দিয়েছিলেন। যুদ্ধই ধ্যানজ্ঞান অকৃতদার ম্যাটিসের। সহকর্মীদের ভাষায়, ‘ধ্যানমগ্ন যোদ্ধা’। প্রতিরক্ষাবিদ্যায় দড়, অগাধ পড়াশোনা তার। যুদ্ধবাজ হিসেবে তার জুড়ি মেলা ভার।

সেনা হিসেবে অত্যন্ত কঠোর হওয়াই স্বাভাবিক, কিন্তু ঘনিষ্ঠ মহলের ভাষায়, ‘নির্দয়’। বিভিন্ন সময়ে তার মন্তব্যে এই নিষ্ঠুর মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। শুধু দেশরক্ষা নয়, বিস্তারকামী হিসেবে মার্কিন প্রতিরক্ষাবিদদের মধ্যে অগ্রগণ্য ম্যাটিস। ‘ম্যাড ডগ’ কিংবা ‘কেওস’ ডাকনামই তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বুঝিয়ে দেয়।

 

 

LEAVE A REPLY