জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৬ জেলায় আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ৬৩ জন। আর ১২ জেলায় চেয়ারম্যান পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগ-সমর্থিত।

আওয়ামী লীগের সূত্র বলেছে, নির্বাচনে প্রার্থী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ‘বিদ্রোহী প্রার্থীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল। অবশ্য এই প্রার্থীদের নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন নন। নির্দলীয় এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনকে জমজমাট করার স্বার্থে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর না–ও হতে পারে দল।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য ও দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, দল থেকে যেহেতু প্রার্থী সমর্থন করা হয়েছে, সুতরাং একক প্রার্থী নিশ্চিত করা তাঁদের দায়িত্ব। তবে জেলা পরিষদের নির্বাচনে মন্ত্রীর মেয়ে, জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং থানা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ায় তাঁরা কিছুটা বিব্রত।

আগামিকাল রোববার কোন জেলায় কতজন বিদ্রোহী প্রার্থী তা দপ্তরের হাতে আসবে। তাঁদের নিবৃত্ত করতে প্রথমে স্থানীয়ভাবে এবং পরে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘এই বিষয়গুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের সময় আছে। তবে দল থেকে যেহেতু প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তাঁদের বিরুদ্ধে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জেলায় অনুষ্ঠেয় নির্দলীয় এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১৯০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থী: গতকাল প্রথম আলোতে ১৫ জেলার ৩২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। প্রথম আলোর প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে আরও ২১ জেলায় ৩১ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর খোঁজ মিলেছে।

ঢাকা জেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান। বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন মাসুদ খান মজলিস। খুলনায় সমর্থন পেয়েছেন শেখ হারুনুর রশিদ। বিদ্রোহী প্রার্থী ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সাবেক সদস্য অজয় সরকার ও জেলা কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক শেখ আলী আকবর। মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী গোলাম মহিউদ্দিন। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. রমজান আলী।

লালমনিরহাটে তিনজন প্রার্থী। দলের সমর্থন পেয়েছেন মতিয়ার রহমান। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সিরাজুল হক, উপদেষ্টা নজরুল হক পাটোয়ারী, সাবেক অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান।

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান আবু তাহের। বিদ্রোহী প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন। নরসিংদীতে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন ভুঁইয়া।

পিরোজপুরে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহ আলম। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ও সদর আসনের সাংসদ এ কে এম আউয়ালের ভাই মশিউর রহমান মহারাজ।

শেরপুরে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন চন্দন কুমার পাল। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর।

কিশোরগঞ্জে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিল্লুর রহমান। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আশিক জামান।

ফরিদপুরে দল-সমর্থিত প্রার্থী লোকমান হোসেন মৃধা। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি শামসুল হক। নড়াইলে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ আইউব আলী। বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈফ হাফিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাসুদ হাসান।

ফেনীতে দল-সমর্থিত জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজ আহম্মদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক হাজি ওবায়দুল হক। কুড়িগ্রামে দল-সমর্থিত প্রার্থী জাফর আলী। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পনির উদ্দিন আহমেদ।

টাঙ্গাইলে সমর্থন পেয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলমগীর খান, জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শওকত রেজা।

বগুড়ায় দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মকবুল হোসেন। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সোলায়মান আলী।

নোয়াখালীতে দলীয় সমর্থন পাওয়া বর্তমান প্রশাসক এ বি এম জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ কাজী ফখরুল ইসলাম ও এ কে এম জাফর উল্যাহ। লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী শামছুল ইসলাম। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এম আলাউদ্দিন ও রামগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান। নওগাঁয় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

শরীয়তপুরে সাবেদুর রহমান খোকা সিকদার দলীয় সমর্থন পেয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি আবদুর রব মুন্সি। মাদারীপুরে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান প্রশাসক মিয়াজ উদ্দিন খান। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সুজিত চ্যাটার্জি ও জেলা কমিটির সদস্য আবদুল বারী। রাজবাড়ীতে দলীয় প্রার্থী ফকীর আবদুল জব্বার। বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রকিবুল হাসান।

প্রতিদ্বন্দ্বী নেই ১২ জনের: ১২ জেলা পরিষদে একক প্রার্থী থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন গাজীপুরে আখতারুজ্জামান, মুন্সিগঞ্জে মহিউদ্দীন আহমেদ, নারায়ণগঞ্জে আনোয়ার হোসেন, নাটোরে সাজেদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জে আবদুল লতিফ বিশ্বাস, ঠাকুরগাঁওয়ে সাদেক কোরাইশী, জয়পুরহাটে আরিফুর রহমান, নেত্রকোনায় প্রশান্ত কুমার রায়, যশোরে শাহ হাদিউজ্জামান, বাগেরহাটে শেখ কামরুজ্জামান, ঝালকাঠিতে সরদার শাহ আলম ও ভোলায় আবদুল মমিন।

এদিকে বরিশালে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বদল করেছে আওয়ামী লীগ। গতকাল দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খান আলতাফ হোসেনের পরিবর্তে মইদুল ইসলামকে সমর্থন করেছে আওয়ামী লীগ।

LEAVE A REPLY