নিউজ ডেস্ক
হবিগঞ্জের বাহুবলে সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া এক ধর্ষিতাকে স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে শাহজালাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে চলতি বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি ওই স্কুলছাত্রী। তাই তার শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে।

চলতি বছরের ১৯ জুলাই ভোরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে ধর্ষিতার বাবা বাহুবল মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও দেয়া হয়। ধর্ষক এখনও পলাতক।

ধর্ষণের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস আগে তাকে স্কুলে যেতে বারণ করে দেন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি।

সর্বশেষ গত ২৮ নভেম্বর বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গেলে মেয়েটিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

নিপীড়িত স্কুল ছাত্রীর বাবা বলেন, ‘ঘটনার পর আমি আমার মেয়েকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে চাইলে হেড মাস্টার আইয়ুব আলী আপাতত তাকে বিদ্যালয়ে না পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে আমার মুরব্বিসহ (সালিসি বিচারক) স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করে। হেড মাস্টার তাদেরও একই পরামর্শ দেন। প্রধান শিক্ষকের পরামর্শ মতে আমি আমার মেয়েকে ঘটনার পর থেকে প্রাইভেট শিক্ষকের মাধ্যমে বাড়িতেই লেখাপড়া করিয়েছি। বার্ষিক পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসায় আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি আমার মেয়েকে ছাত্রপত্র দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তাকে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিতে পারছেন না। ’

স্থানীয় সালিসকারী (স্থানীয় ভাষায় মুরব্বি) অরুন চক্রবর্তী বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে লেখাপড়া ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেছি। প্রধান শিক্ষক আমাদের বলেছেন, ধর্ষিত ছাত্রীটিকে বিদ্যালয়ে যেতে দেওয়া হলে এর প্রভাব অন্য ছাত্রছাত্রীদের ওপর পড়বে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে তাকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী বলেন, ‘ঘটনার পরপরই বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে ম্যানেজিং কমিটি ওই ছাত্রীটিকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তাকে ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া যায়নি। ’ তিনি দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে এ বিষয়ে তার কিছুই করার ছিল না। বিষয়টা সম্পূর্ণ ম্যানেজিং কমিটির ব্যাপার।

ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী নিজে অপরাধী নয়, তার সঙ্গে অপরাধ করা হয়েছে। তাহলে স্কুল ছাত্রীর লেখাপড়া করা নিষেধ কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিটির সভাপতি বললেন, অন্যান্য ছাত্রীর ওপর মেয়েটির প্রভাব পড়বে বলে ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ তাকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাশিম মিয়া বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

বর্তমানেও তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়। তিনি দাবি করেন, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের চাপের মুখে তাঁরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘চাপের মুখে আমরা তাকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি অনেক আগে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। একটি কুচক্রিমহল আমাকে হেও প্রতিপন্ন করার তাগিদে তারা এখন ছাত্রীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ চাইছে। গত পাঁচ মাসের ভেতরে ছাত্রী বা অভিভাবকের কোনো সদস্য আমাদের স্কুলে আসেনি। ’

LEAVE A REPLY