ক্রীড়া ডেস্ক
বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করল খুলনা টাইটান্স। আর খুলনার এই জয়ে এবারের আসর থেকে বরিশাল বুলস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পর বিদায় নিল রংপুর রাইডার্স।

মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে রোববার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। সেটির পেছনে ছুটতে গিয়ে হাসানুজ্জামানের ‘ঝোড়ো’ ইনিংস ও মাহমুদউল্লাহর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে ১২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে খুলনা।

খুলনার হয়ে ১৯ বলে তিনটি করে চার-ছক্কায় ৪০ রানের ‘ঝোড়ো’ ইনিংস খেলে দলকে মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন হাসানুজ্জামান। মাহমুদউল্লাহ খেলেন ২৮ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৫০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। শেষ দিকে বেনি হাওয়েল করেন ১৬ বলে ২৬ রান।

ঢাকা ডায়নামাইটস শীর্ষ দল হিসেবেই আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল। চিটাগং ভাইকিংস ও রাজশাহী কিংসও পা রাখে শেষ চারে। রোববার গ্রুপ পর্বের শেষ দিন চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় খুলনা।

দুই শীর্ষ দল ঢাকা ও চিটাগং ফাইনালে ওঠার পথে দুটি সুযোগ পাবে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে এই দুই দলের মধ্যকার লড়াইয়ে জয়ী দল ফাইনালে উন্নীত হবে। অন্যদিকে হেরে যাওয়া দল রাজশাহী ও খুলনার মধ্যকার এলিমিনেটরে জয় পাওয়া দলের মুখোমুখি হবে।

জয়ের জন্য ১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিবের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ফ্লেচার। ফলে চাপের মুখে পড়ে যায় খুলনা। শুরুতেই উইকেট হারানোর পর খোলসবন্দী হয়ে পড়েন হাসানুজ্জামান ও মজিদ।

তবে চতুর্থ ওভার থেকেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন হাসানুজ্জামান। সাকিব ওই ওভারে ছক্কা মেরে খুনে মেজাজে ফেরা শুরু তার। এরপর বেটনের করা পঞ্চম ওভারে চার হাঁকিয়ে খুলনা শিবিরকে উজ্জীবিত করেন হাসানুজ্জামান।

নিজের তৃতীয় ওভারেও হাসানুজ্জামানের ঝড়ের সামনে পড়েন সাকিব। ঢাকার অধিনায়কের করা ওভারের চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকানোর পর শেষ বলে মারেন চার। এরপর সেকুগে প্রসন্নর করা অষ্টম ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে খুলনাকে চাঙা করেন দলটির এই ওপেনার।

নবম ওভারে রবি বোপারা আক্রমণে এনে হাসানুজ্জামানের ‘ঝড়’ থামান। বোপারার ওভারের প্রথম বলে লং-অনে বেটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন হাসানুজ্জামান। এরপর মজিদ ও মাহমুদউল্লার ব্যাটে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে খুলনা। তৃতীয় উইকেটে এই দুজন ৩২ বলে ৪৬ রানের দারুণ এক জুটি গড়লে ম্যাচে ফিরে আসে খুলনা।

দলীয় ১০৭ রানের মাথায় ৩৬ বলে ২১ রানের মন্থর এক ইনিংস খেলে আউট হন মজিদ। তবে অন্য প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ আক্রমণাত্মক খেলায় সেটি ম্যাচের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। চতুর্থ উইকেটে বেনি হাওয়েল ও মাহমুদউল্লাহ দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরের কাছাকাছি নিয়ে যান। দলীয় ১৫১ রানের মাথায় মাহমুদউল্লাহ আউট হয়ে ফিরে গেলেও হাওয়েল ও নিকোলাস পুরান মিলে ৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

এর আগে ৪১ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৫৯ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে ঢাকাকে মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন কুমার সাঙ্গাকারা। মেহেদী মারুফ ১৬, নাসির হোসেন ১৯, মোসাদ্দেক হোসেন ২০, সেকুগে প্রসন্ন ১৪ এবং সাকিব ১১ রানের ছোট ইনিংস খেললেও তাই ১৫৮ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহই পায় ঢাকা।

খুলনা টাইটান্সের সফলতম বোলার জুনায়েদ খান। ২২ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট নেন এই পাকিস্তানি রিক্রুট। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন বেনি হাওয়েল ও শফিউল ইসলাম।

 

LEAVE A REPLY