প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পোস্ট অফিস, কৃষি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় দুই লাখ প্রতিষ্ঠানকে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনতে আইসিটি খাতের সর্ববৃহৎ একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

স্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেকটিভিটি নামে এ প্রকল্পের আওতায় একই সঙ্গে ই-কমার্সের বিস্তারে ১০ হাজার গ্রোথ সেন্টারকেও সংযুক্ত করা হবে। শর্তযুক্ত চীনা অর্থায়নের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত আইসিটি খাতে এটিই সবচেয়ে বড় প্রকল্প বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহৎ এ প্রকল্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, চার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০ হাজার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এক হাজার স্নাতক পর্যায়ের কলেজে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হবে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রেগুলেটরি ল্যাব, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ল্যাব ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর বাইরে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ল্যাব করা হবে। হার্ডওয়্যার শিল্পের বিকাশে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানেও ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত নথিতে বলা আছে।

তবে কোন খাতে কত টাকা খরচ হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। আগামী বছরের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পের সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার মধ্যে আট হাজার কোটি টাকা বা এক বিলিয়ন ডলার দেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক। প্রকল্প পাস হওয়ার পর চীনের কোনো কোম্পানির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে হবে বলে শর্ত রয়েছে। সে অনুসারে আগামী বছরের শুরুর দিকে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে চীনের কোনো কোম্পানি প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্পের অন্য একটি বড় দিক হল ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বহুসংখ্যক বাণিজ্যিক ও আর্থিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ডিজিটাল মানি-পে পয়েন্ট স্থাপন করা হবে যার আওতায় একটি প্লাটফর্মসহ পেমেন্ট গেটওয়ে প্রস্তুত করা হবে।

ফলে জনগণ সরকার প্রদত্ত সব ভাতা ও আর্থিক সুবিধাসহ সঞ্চয়, বীমা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহজে আর্থিক লেদদেন করতে পারবে বলে নথিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী টেকসই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য পয়েন্ট অব ইন্টারকানেক্ট স্থাপন হবে, যা স্থানীয় নেটওয়ার্ক ট্রাফিক চলাচল নির্বিঘ্ন করবে।

LEAVE A REPLY