প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আহরণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। চলতি অর্থ বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের পর নভেম্বর মাসেও কমেছে প্রবাসী আয়। নভেম্বরে প্রবাসীরা দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৯৫ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সর্বশেষ হালনাগাত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রবাসী আয় কমার কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জনশক্তি রফতানিতে ভাটা, অবৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিভিন্ন মুদ্রার দর পতন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়া বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভলো খবর নয়। বেশ কয়েকটি কারণে রেমিট্যান্স কমছে, এর মধ্যে অন্যতম ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হচ্ছে। এতে আমদানিকারকদের সুবিধা হলেও রেমিট্যান্স ও রফতানিতে পভাব পড়ে।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রবাসীদের বেতন ও মজুরি কমে গেছে। অর্থাৎ প্রবাসীদের আয় কমে যাওয়ায় রেমিট্যান্স পাঠানো কমে গেছে। এছাড়াও সম্প্রতি হুণ্ডির তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থ বছরের নভেম্বরে প্রবাসীরা ৯৫ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা গেল অর্থ বছরের একই মাসের চেয়ে ১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ কম। গেল বছরের নভেম্বর মাসে রেমিট্যান্স আসে ১১৪ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স ছিল ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে রেমিট্যান্স কমে দাঁড়ায় ১০৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। অক্টোবরে আসে ১০১ কোটি ৯ লাখ ডলার। সর্বশেষ নভেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছে ৯৫ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের মাস অক্টোবরের চেয়ে ৬ কোটি বা ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ কোটি ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৯৪ লাখ এবং বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৮ লাখ মার্কিন ডলার।

তবে একক ব্যাংক হিসেবে সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে ২১ কোটি ৭৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্স আহরণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১০ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার ও জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তার আগের অর্থ বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫১ শতাংশ কম প্রবাসী আয় আসে। গেল অর্থ বছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।

LEAVE A REPLY