সোসাইনিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের মরুভূমিতে উৎপাদিত খেজুরের পরীক্ষামূলক চাষ করে সফল হয়েছে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, পাহাড়ের মাটিতে পরীক্ষামূলক ভাবে সফল আরবের এই খেজুরের চাষ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশ কৃষি ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

পাহাড়ের মাটিতে আরবের এই খেজুর চাষের সফলতায় এখানকার কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ। আরব দেশের মেসোপটেমিয়াকে খেজুরের আদি নিবাস হিসেবে ধরা হয়। তবে বাংলাদেশের যে খেজুর চাষ হয় সেটি বন্য, যার কোন চারা হয় না।

চাহিদার কারনে আরবের খেজুর রমজান মাসে আরব দেশ থেকে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। দেশে খেজুরের  চাহিদা মেটাতে স্থানীয়ভাবে পরিকল্পিত খেজুর চাষে মনোযোগী হয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা।  রাঙ্গামাটি রাইখালীর পাহাড়ী কৃষি

গবেষণা কেন্দ্র, ২০০৯ সালে সৌদি আরবের গাছ থেকে প্রায় কয়েকশ বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলক ভাবে চারা উৎপাদন করে গবেষণার মাঠে রোপন  করে সফল হন বিজ্ঞানীরা। সব গাছে এ বছর ফুল আসে এবং প্রচুর ফল ধরে যার আকার ও আকৃতি আরবের খেজুরের মতোই খুবই আকর্ষনীয়।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ের রাইখালীর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের  প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনুর রশীদ. বলেন, আরবের এই খেজুরের পরীক্ষামূলক চাষের সফলায় পাহাড়ের কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটা নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

পরীক্ষামূলকভাবে কাপ্তাইয়ের রাইখালী কৃষিগবেষণা ইনষ্টিটিউটে উৎপাদিত এ খেজুরের একটি ফলের ওজন ১২ থেকে ১৫ গ্রাম এবং বীজের ওজন আধা গ্রামের মতো। বিজ্ঞানীরা জানান, গবেষণার মাধ্যমে খুব শীঘ্রই আরবের এই খেজুর বাংলাদেশের মাটিতে জাত হিসেবে অবমুক্ত করা হবে।

এই আরবের খেজুর নিয়ে অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন রাইখালীর পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কের্ন্দের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ. এস. এম. হারুনর রশীদ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শ্যাম প্রসাদ চাকমা ও মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

কৃষি-বিজ্ঞানীদের মতে, এই গবেষণার সফলতা সারা বাংলাদেশের কৃষকদের মাঝে পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশে আর খেজুর আমদানির প্রয়োজন হবেনা এবং এই খাতে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে।

দেশীয় আবহাওয়া, মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্যকে কাজে লাগিয়ে রাঙ্গামাটির পাহাড়ে আরবের খেজুর বাগানে ভাল ফলন সম্ভব হয়েছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা। এখন প্রয়োজন সরকারী উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার।

LEAVE A REPLY