আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরব ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছায়াযুদ্ধে ইন্ধন জোগাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।  তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের কয়েকজন রাজনীতিক ইসলাম ধর্মের অপব্যবহার করছেন। বরিস জনসনের এ বক্তব্য নিয়ে গার্ডিয়ান পত্রিকা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে রোমে এক অনুষ্ঠানে বরিস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সত্যিকারের নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। এ কারণেই সেখানে ধর্মের অপব্যাখ্যা করার সুযোগ মিলছে এবং ছায়াযুদ্ধে ইন্ধন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

গার্ডিয়ানের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা ওই ভিডিও ফুটেজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘সৌদি আরব, ইরানসহ সবাই সেখানে পুতুলের মতো আচরণ করছে এবং ছায়াযুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। এ দৃশ্য দেখা দুঃখজনক।’ তবে ভিডিও ফুটেজ দেখে এ অবস্থার জন্য তিনি সৌদি আরব ও ইরানকে দায়ী করেছেন কি না, তা বোঝা যায়নি। যদিও গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামের অপব্যবহারের জন্য সৌদি আরবকেই দায়ী করেছেন বরিস।

বরিস জনসন আরও বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রাজনীতিক নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যবহার ও অপব্যাখ্যা দিচ্ছেন। এ ছাড়া একই ধর্মে বিশ্বাসী বিভিন্ন ধারার মানুষদেরও তাঁরা নানাভাবে ব্যবহার করছেন। ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সমস্যাই এটি।’

তবে বরিস জনসনের এ মন্তব্যকে সরকারের অবস্থান বলে মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের সরকার।

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মৈত্রী দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে সৌদি আরব প্রতিরক্ষা-বিষয়ক ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর প্রধান ক্রেতাদের অন্যতম। অন্যদিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক শীতল অবস্থায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গত জুলাই মাসে বরিস জনসনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

 

লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস একসময় সাংবাদিক ছিলেন। যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে বরাবরই উচ্চকণ্ঠ ছিলেন তিনি।

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই মত ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান প্রকাশ করে না। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বাহরাইনে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ফেরার পরপরই তাঁর মুখপাত্র এ কথা জানান।

LEAVE A REPLY