বিসিএল শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন, জিতেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, আরেকটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টও। কোচ হিসেবে বিপিএলের শিরোপা ছিল অধরা। এবার ধরা দিল সেটিও। খালেদ মাহমুদ এগিয়ে চলেছেন, ছুটছেন একটি স্বপ্নের পেছনে। এক দিন হতে চান বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ।
স্বপ্নের কথা আগেও বলেছেন বেশ কবার। বিপিএলে ঢাকা ডায়নামাইটসকে কোচিং করিয়ে শিরোপা জেতানোর পর আবার তার কণ্ঠে উঠে এলো সেই স্বপ্নের কথা।

“কোচিং আমার প্যাশন। আমি সবসময় বলেছি, যত কিছুই করি, কোচিংটা সবচেয়ে ভালোবাসি এবং এটি কখনোই ছাড়ব না। সবসময় বলেছি, আমি বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চাই। কবে পারব বা আদৌ পারব কিনা, জানি না। তবে যতদিন পারি, শরীর যতদিন ফিট থাকে, আমি চেষ্টা করে যাব।”

3

অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও কোচ খালেদ মাহমুদে জুটিতে এবার বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা। ২০১৩ সালে এই কোচ-অধিনায়ক জুটিতেই বিজয় দিবস টি-টোয়েন্টিতে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন প্রাইম ব্যাংককে।

প্রাইম ব্যাংকের কোচ হিসেবে মাহমুদ জিতেছেন ঢাকা লিগ। এবার বিপিএলের আগে আবার ঢাকা লিগ জিতেছেন আবাহনীর কোচ হয়ে। আবাহনীকে কোচিং করিয়ে আগেও জিতিয়েছেন শিরোপা। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি বড় দৈর্ঘ্যের টুর্নামেন্ট বিসিএলে।

এবারের অভিজ্ঞতা যদিও ছিল একটু ভিন্ন। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলির মধ্যে বিপিএলে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে এমনিতেই। তার ওপর কোচিং করিয়েছেন তিনি ঢাকা ডায়নামাইটসকে, যে দলে ছিল তারকার ছড়াছড়ি। দলের মালিকপক্ষ বেক্সিমকো, যে প্রতিষ্ঠানের বেশ কজন কর্মকর্তা বিসিবির শীর্ষ কর্তাদের অন্যতম। দলের পেছনে অঢেল অর্থ খরচ করায় প্রত্যাশা ছিল বেশি। চাপটাও তাই ছিল অনেক বেশি।

এই সবকিছু মিলিয়েই প্রশ্নটা ছুটে গেল মাহমুদের দিকে, এই প্রবল চাপ কিভাবে সামলালেন? মাহমুদ বললেন তার অভিজ্ঞতার কথা।

“আপনারাই সবসময় লিখেছেন, বলেছেন যে আমি লড়াকু, ‘ফাইটার।’ লড়াই করার ব্যাপারটি অনেক কম বয়স থেকেই আছে ভেতরে। আমি সবসময় একটু ছোট দল নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। এবার দায়িত্ব ছিল সবচেয়ে বড় দলের। চাপ ছিল অবশ্যই, চ্যাম্পিয়ন হতে চেয়েছি আমরা। তবে আমি এখন এতটুকু পরিণত যে এই চাপ সামলাত পারি।”

কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনেদের মত কিংবদন্তি থেকে শুরু করে ডোয়াইন ব্রাভো, আন্দ্রে রাসেল, রবি বোপারা, উঠতি এভিন লুইসদের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা হলো এবার। মাহমুদ জানালেন, এই তারকাদের সঙ্গ কাজ করে নিজেও সমৃদ্ধ হয়েছেন।

“কোচিংয়ের ক্ষেত্রে তো জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মানের এত ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করলে, কথা বললে অনেক কিছু শেখা যায়। ক্রিকেটে তো শেখার শেষ নেই।”

“আমার জন্য অভিজ্ঞতাটি দারুণ। মাহেলাকে একাদশে জায়গা দিতে পারিনি আমরা। আমি ভেবেছি, ওর মতো ক্রিকেটারকে আমি কিভাবে এটা বলব! তার পরও কাজটি আমাকে করতে হয়েছে এবং করেছি। সব কিছু থেকেই শেখার আছে। আশা করি এই শিক্ষাটা থেকে আমি বাংলাদেশ দলের সহায়তা করতে পারব।”

LEAVE A REPLY