ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স চ্যাম্পিয়ন হবার মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে বিপিএলের। এবার বিদেশি ক্রিকেটারদের সাথে পাল্লা দিয়ে লড়েছে দেশি ক্রিকেটাররা। যদিও গেইল, রাসেল, ফ্রাঙ্কলিনরা অনেকে পরে বিপিএলে যোগ দিয়েছেন। তবে আফ্রিদি, ব্রাভো, কুপাররা প্রথম থেকেই এবারের আসরে খেলেছেন। পারফরম্যান্সের দিক থেকে বিশ্বসেরা তারকাদের এবার ছাড়িয়ে গেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

বিপিএলের সেরা পারফরমারদের নিয়ে সেরা একাদশ গঠন করেছে ক্রিকইনফো। দেখা গেছে এগারোজনের সাতজনই বাংলাদেশের। টাইগারদের মধ্যে সেরা একাদশে রয়েছেন তামিম ইকবাল, মেহেদী মারুফ, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, আরাফাত সানি ও শফিউল ইসলাম।

তবে এই একাদশে ঠাঁই হয়নি সাকিব আল হাসানের।

বিপিএল একাদশের প্রথম দুটি নাম তামিম ও মেহেদী মারুফের। ৪৭৬ রান নিয়ে টুর্নামেন্টের সবোর্চ্চ রানের মালিক তামিম দলে থাকবেন এটা তো অনুমিত। তবে মারুফ কেন? জবাবে ক্রিকইনফো জানাচ্ছে, খুব বেশি বড় স্কোর না থাকলেও প্রায় প্রতিটি ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ঝড়ো শুরু এনে দিয়েছেন মারুফ। আর সর্বনিম্ন ১০ ইনিংসে ব্যাটিং করা ওপেনারদের মধ্যে মারুফের স্ট্রাইক রেট সবচেয়ে বেশি। আর ফিল্ডার হিসেবেও দারুণ চৌকস তিনি। ফাইনালে দারুণ এক থ্রো করে সাব্বিরকে আউট করেন মারুফ।

ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বর জায়গাটি দখল করেছেন সাব্বির রহমান। ১১৭ স্ট্রাইক রেটে ৩৭৭ রান করেছেন রাজশাহী কিংসের এই ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে একটি শতকও রয়েছে। ক্রিকইনফো বলছে, তিন নম্বর পজিশনে মিঠুনের থাকা উচিত ছিল তবে যে কেউ তার দলে সাব্বিরের মতো একজন দুধর্ষ ব্যাটসম্যান পেতে চাইবে।

মিডল অর্ডারে সাব্বিরের পরের জায়গাটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। ৩৯৬ রান আর বল হাতে ১০ উইকেট রিয়াদের জায়গা নিয়ে আর কোনো প্রশ্নের অবকাশই তো থাকার কথা নয়। আর জয়ের জন্য শেষের দিক নিশ্চিন্তে বল তুলে দিন রিয়াদের হাতে, বাকিটা তিনিই করবেন।

রিয়াদের পরের নামটি আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর। ব্যাট হাতে ২৩০ রান। স্ট্রাইক রেট ১৭৪.২৪! আর নিয়েছেন ১৯টি উইকেট। এবারের বিপিএলে ধুঁকতে থাকা চিটাগাং ভাইকিংস কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত উঠে এসেছে তো তামিম আর নবীর কারণেই।

ছয় নম্বর জায়গাটি ড্যারেন স্যামির। ক্রিকেটভক্তরা প্রশ্ন তুলতে পারেন স্যামির জায়গায় সাকিব-সাঙ্গা বা অন্য কেউ নয় কেন? ক্রিকইনফো বলছে, ২৭৬ রান করে রাজশাহী কিংসকে এলিমিনেটর-কোয়ালিফায়ার থেকে ফাইনালে নিয়ে আসার কৃতিত্বটা স্যামির। আর খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার দারুণ দক্ষতা থাকার কারণে অধিনায়ক হিসেবে স্যামিকেই পছন্দ তাদের।

দলের উইকেটরক্ষকের ভারটা মুশফিকুর রহিমের ওপর দিয়েছে সাইটটি। ৩৭ গড়ে ৩৪১ রান করা মুশফিক ছাড়া আর বিকল্প কে ছিল বলুন? দলের আট নম্বর পজিশনটি ডোয়াইন ব্রাভোর। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ২১টি উইকেট নিয়েছেন ব্রাভো। আর শেষের দিক ঝড়ো গতির ব্যাটিং তো আছেই।

দলটিতে বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে অন্যদের চেয়ে আরাফাত সানিকেই বেশি যোগ্য মনে করছে ক্রিকইনফো। মাত্র ৬.২৯ গড়ে ১৩ উইকেট নেয়া আরাফাত সানির চেয়ে পারফেক্ট আর কেউ হতোও না। তবে এই জায়গায় নাজমুল ইসলাম অপু বা সোহাগ গাজীকেও যুতসই ভেবেছেন নির্বাচকরা।

দলের পেস আক্রমণের ভারটা শফিউল হক ও জুনায়েদ খানের ওপর দিয়েছে ক্রিকেটের বিখ্যাত সাইটটি। ১৮ উাইকেট নিয়েছেন শফিউল। তবে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোটের কারণে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে বাদ পড়েছেন তিনি।

আর ২০ উইকেট নেয়া পাকিস্তানি পেসার জুনায়েদ খান তো এবারের বিপিএলে অনবদ্য পারফর্ম করেছেন। আসরে ভালো করায় শীঘ্রই পাকিস্তান জাতীয় দলেও ডাক পেতে পারেন বামহাতি এই পেসার।

LEAVE A REPLY