শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় ব্লু টুথ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর লেখার সময় হাতেনাতে নয় পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ শিক্ষার্থী কৌশিক রায় ও রোকেয়া খাতুন, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাদমান শাহরীজ, লালমাটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে হাসিবুল হাসান, মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট থেকে শাহমুন নাকিব, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তানিয়া সুলতানা, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নুরু মোহাম্মদ, আমির হামজা ও খন্দকার আল মামুন।

এ বিষয়ে আটক শিক্ষার্থী রোকেয়া খাতুন স্বর্ণার দাবি, অরিন নামের এক বন্ধু তাকে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয় সেখানে তার সাথে আমার ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নের উত্তর মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে বলে দেওয়ার চুক্তি হয়।

ঠিক একইভাবে অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা জানান, তারা কেউ তাদের বড় ভাইদের চিনে না। তবে তাদের শর্ত অনুযায়ী, কেউ তাদের এইচ এস সি পরীক্ষার মূল সনদ কেউবা খালি( ব্লাঙ্ক) চেকের মাধ্যমে এসব চুক্তি করেছে বলে স্বীকার করেছে।

ডিভাইসসহ আটক পরীক্ষার্থীদের র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) কাছে সোপর্দ করে বিশ্বববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৫টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবার একটি আসনের বিপরীতে লড়েছেন ৫৬ জন শিক্ষার্থী। চারটি অনুষদে ৫৪০টি আসনের বিপরীতে ৩০ হাজার ২৬৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মো. সেকেন্দার আলী বলেন, পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও ফোন নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যেমে উত্তরপত্র সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছিল। তাই আমরা নয়জনকে আটক করেছি। এদের কাছ থেকে অনেক মূল্যবান তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের প্রশাসন র‍্যাব ২-এর কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ, উপ-উপাচার্য ড. মো. সেকেন্দার আলী, ট্রেজারার ড. মো. আনোয়ারুল হক বেগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক-কর্মকর্তারা পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

গ্রেডিং পদ্ধতিতে এসএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএর আটগুণ এবং এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএর ১২ গুণ নম্বর লিখিত পরীক্ষার ১০০ নম্বরের সঙ্গে যোগ করে মোট ২০০ নম্বরের ওপর মেধাতালিকা প্রস্তুত করা হবে। ফলাফল প্রকাশিত হবে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং মূল মেধাতালিকা থেকে ভর্তি ২৮ এবং ২৯ ডিসেম্বর। ক্লাস শুরু হবে ৫ জানুয়ারি। কৃষি অনুষদে ৩৫০ জন, অ্যাগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদে ৭৫ জন, অ্যানিমেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ ৯০ জন এবং ফিশারিজ ও অ্যাকোয়াকালচার অনুষদে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবেন।

ভর্তি বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.sau.edu.bd) থেকে বিস্তারিত জানা যাবে।

LEAVE A REPLY