নিউজ ডেস্ক
বন্ধুরা, আজ আমি আমার বিসিএস লাইফে প্রথম বারেরমতো প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিয়ে আসলাম। সবাই আমার জন্য দোয়া করিও”

ফেসবুকে স্ট্যাটাসটা দেয়ার কিছুক্ষণ পরই সুপার বয় জলিলের ইনবক্সে একটা মেসেজ আসে। খলিল ইনবক্সটা ওপেন করতেই দেখে এঞ্জেল চুমকির মেসেজ! নামটার দিকে তাকিয়েই চোখটা ছানাবড়া হয়ে যায় সুপার বয় খলিলের!

কি অবিশ্বাস্য ব্যাপার! এও কি সম্ভব!

যে মেয়েটা এতদিন তার কোনো মেসেজের রিপ্লাই পর্যন্ত দেয়নি, মেসেজ পাঠালেও সেটা আনসিন করে ফেলে রেখেছে, সেই এঞ্জেল চুমকি আজ তাকে নিজ থেকে নক দিয়েছে? চোখ দুটো ভালো করে কচলে নিল জলিল। নাহ, সে যা দেখছে ঠিকই দেখছে। ওই তো এঞ্জেল চুমকি লিখেছে, ‘হাই! আপনার প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কেমন হল?’

খলিল হুড়মুড় করে মেসেজের রিপ্লাই দিতে শুরু করল-

– জ্বি আলহামদুলিল্লাহ খুবই ভালো হয়েছে।

– বাহ, সো কিউট!

– আপনিও অনেক কিউট।

– আরে কি যে বলেন।

– হ্যাঁ সত্যিই! প্রোফাইলে ঢুকে আপনার সবগুলো ছবি আমি দেখেছি। আপনি সত্যিই অনেক কিউট।

– না, ইয়ে, মানে…

লজ্জায় জলিলের নীল ফেসবুক লাল হয়ে যায়!

বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা দেয়া মহান পুরুষ সুপার বয় জলিল আর এঞ্জেল চুমকির মধ্যে নতুন উদ্যমে শুরু হল চ্যাটিং। তারপর আর জলিলকে আবেগের কীবোর্ডে ব্যাকস্পেস চাপতে হয়নি! দেখতে দেখতে পরিপূর্ণ হতে থাকল তাদের মেসেঞ্জার হিস্টোরি। জলিলের মেসেজ আনসিন করে রাখার তো প্রশ্নই ওঠে না, চুমকিই বরং এখন নিজ থেকেই জলিলকে মেসেজ দেয়। সারাদিন তাদের চ্যাটিং হয়, চ্যাটিং হয় রাতেও।

একদিন জলিলের প্রিলিমিনারি রেজাল্টের দিন আসে। রেজাল্ট পাবলিশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অধীর আগ্রহ নিয়ে জলিলের ইনবক্সে নক দেয় চুমকি। মেসেজের সঙ্গে একটু লুতুপুতুও মিশিয়ে দেয়।

– এই যে পচা মানুষটা, শুনছেন? এই যে শোনেন না একটু!

– জি বলুন।

– আপনার রেজাল্টের খবর কি? প্রিলিতে টিকেছেন?

– না, এবার হয়নি আর কি! আগামীবার হবে ইনশা-আল্লাহ!

জলিলের মেসেজ সিন হয়, কিন্তু কোনো রিপ্লাই আসে না। রিপ্লাই আসে বেশ কিছুক্ষণ পর। বুকটা ধক করে উঠে জলিলের। জলিল দুরু দুরু বুকে ওপেন করে মেসেজটা। মেসেজে লেখা-

– আচ্ছা ভাইয়া পরে কথা হবে। আমার বয়ফ্রেন্ড নক দিয়েছে।

মেসেজটা দিয়েই অফলাইনে চলে যায় চুমকি। জলিল একটু মুচকি হেসে রিপ্লাই দেয়-

-আপনার সঙ্গে একটু মজা করলাম। আমি প্রিলিমিনারিতে টিকেছি।

মেসেজটা সেন্ড হওয়ার পরপরই চুমকির আইডি থেকে রিপ্লাই আসে-

– মজা শুধু কি আপনিই করতে পারেন? আমি করতে পারি না? আমিও মজা করেছি। হিহিহি। আমার কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই। আমি সিঙ্গেল। আমি জানতাম, আপনি প্রিলিতে অবশ্যই টিকবেন। আমার পুরোপুরি বিশ্বাস ছিল। কারো সঙ্গে মনের মিল থাকলে অনেক কিছুই টের পাওয়া যায়।

জলিল চুমকির মেসেজ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে যায়। তাদের মধ্যে আবারও চ্যাটিং শুরু হয় পুরোদমে। ফেসবুকের নীল-সাদা গন্ডি পেরিয়ে তাদের মধ্যে ফোন নাম্বারের লেনদেনও হয়। দিনে দিনে লাইক কমেন্ট থেকে তাদের সম্পর্ক যেতে থাকে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসের দিকে। তারা দুজনই বুঝতে পারে, দুজনই একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেছে। শুরু হয়ে যায় তাদের প্রেমের ইনিংস। একে অপরকে ফেসবুক আইডি বা আসল নামে ডাকার পর্যায় পেরিয়ে আদর করে বিভিন্ন নামে ডাকার পর্যায় শুরু হয়। জলিল চুমকিকে ডাকে চুমু, চুমকি জলিলকে ডাকে বাবু।

অনেকগুলো দিন পেরিয়ে যায়। জলিলের বিসিএস রিটেন পরীক্ষার রেজাল্টও বের হয় ততদিনে। জলিল সত্যিকারের সুপারবয়, প্রিলির মতো রিটেনেও টিকে গেছে সে। চুমকি আহ্লাদি গলায় বলে, এই চলো না, আমরা এবার বিয়ে করে ফেলি! খলিল খুশিতে গদগদ হয়েও একটু ভাব নিয়ে বলে, ভাইভাটা আগে শেষ করে নেই। না হলে তো আমার ফ্যামিলি এখন আমাকে বিয়ে করাবে না। চুমকি নাছোড়বান্দা। সে এখনই বিয়ে করবে। কোনোভাবেই সে জলিলকে হারাতে চায় না। জলিলকে সে অনেক ভালোবাসে। প্রয়োজনে পালিয়ে বিয়ে করবে! সে মেয়ে হয়ে পারলে জলিল কেন পারবে না?

অবশেষে চুমকির কথায় রাজি হতে বাধ্য হয় জলিল। পালিয়ে গিয়ে কাজী অফিসে বিয়ে করে ফেলে দুজন। কল্পনায় চুমকির মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বাজে, আমি ধন্য হয়েছি ওগো ধন্য…

গল্পটা এখনেই শেষ হতে পারত। কিন্তু শেষ হয় না। বিয়ের ক’দিনই পরই জলিলের বিসিএস ভাইভা হয়। মামা-চাচা-ফুপা-খালু ইত্যাদি ‘কার্যকর’ মুরব্বিদের অভাবে সব বাঁধা পেরিয়ে ভাইভায় আটকে যায় জলিল! চুমকি সেই যে জলিলকে ফেসবুক এবং বাস্তব, দুই জীবনেই ব্লক করে চলে যায়, আর ফিরে আসে না।

জলিল এখন নীলক্ষেতে বিসিএস গাইড বিক্রি করে। সূত্র: যুগান্তর

LEAVE A REPLY