চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর নামে চট্টগ্রামের আদালতে মানহানির মামলা করেছেন বিশ্ববদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. গাজী সালেহ উদ্দীন।

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতে একটি আদালতে ৫০০ ও ৫০১ ধারায় উপাচার্যের নামে এ মামলা দায়ের করেন তিনি।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ নভেম্বর সাবেক উপাচার্য আবু ইউসুফ চৌধুরীর এক স্মরণসভায় বর্তমান উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী কটাক্ষ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী সালেহ উদ্দীনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলেন ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী সালেহ উদ্দীনের সম্মানহানি হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে মামলার বাদী অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী আমাকে উদ্দেশ্যে করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সন্দেহের কথা বলেছিলেন। বিষয়টি আমার জন্য মানহানিকর। তাই তার বিরুদ্ধে আদালতে মানহানি মামলা করেছি।

এর আগে ২৯ নভেম্বর নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত চবির সাবেক উপাচার্য ড. আবু ইউসুফ আলমের নাগরিক স্মরণসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক নগদ টাকা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

এসময় উপাচার্য একই মঞ্চে বসা অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ উদ্দিনকে দেখিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক ড. গাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করা ভালো না। আমি কিছু পাওয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। এখন অবসরে গিয়েছি। আমি মুক্তিযুদ্ধ করিনি এমন প্রমাণ করতে একজন সাবেক উপাচার্য চেষ্টার ত্রুটি করেননি। কিন্তু তিনি সফল হননি। মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম বলে এক বছর ছুটি পেয়েছি। সার্টিফিকেট গলায় লাগিয়ে বলার দরকার নেই আমি মুক্তিযোদ্ধা। রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না।

LEAVE A REPLY