কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় বাসের ভেতরে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন চারজন। গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বলছে, হতাহতরা বাসে ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন। আহতেরা বলছেন, নিজেদের প্রয়োজনে তাঁরা বাসে করে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। কোনো কারণ ছাড়াই র‍্যাব তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম সালাম। তাঁর বাড়ি পাবনার আইতাইকুলা থানা এলাকায়। সালামের বয়স জানা যায়নি। গুলিবিদ্ধ চারজন হলেন, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আইনুল হক (২৮), খোকন (৪১), পাবনার বেড়া উপজেলার দেলোয়ার হোসেন (২৮) ও আলমগীর হোসেন (২৫)। আহত ব্যক্তিরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুষ্টিয়া র‍্যাব ক্যাম্পের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, কয়েকজন ডাকাত যাত্রীবেশে বাসে ডাকাতি করতে যাচ্ছে বলে র‍্যাব খবর পায়। র‍্যাবের একটি দল ভেড়ামারা-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালায়। তাঁরা ভেড়ামারা থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের ভেতরে গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে তল্লাশি চালান। বাসের ভেতর থেকে কয়েকজন র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পাঁচজনের পায়ে গুলি লাগে। বাসের ভেতর থেকে একটি রিভলবার, একটি পিস্তল, আটটি গুলি, দুটি চাপাতি, দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। এরপর র‍্যাব আহত পাঁচজনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পথে সালাম মারা যান।

জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, পাঁচজনই ডাকাত দলের সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে সালাম ঘটনার মূল হোতা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ক্যাম্পের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাদা শাহরিয়ার সকালে বলেন, ভোর পাঁচটার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাঁচ ব্যক্তিকে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন র‍্যাবের সদস্যরা। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন মৃত।

হাসপাতালে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চারজনকে মেঝেতে হাতকড়া পরা অবস্থায় চিকিৎসাধীন দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে খোকনের বাম পায়ে গুলি লেগেছে। আইনুল, দেলোয়ার ও আলমগীরের হাঁটুর ওপরে গুলি লেগেছে।

খোকনের ভাষ্য, ঢাকার পোশাক কারখানার শীতের কাপড় নিয়ে এসে তিনি পাবনায় বিক্রি করেন। আইনুলও একই ব্যবসা করেন। তাঁরা দুজন বাসে করে মাল কিনতে যাচ্ছিলেন। র‍্যাব বাসে উঠে বলে তাঁদের কাছে অস্ত্র আছে। এরপর পায়ে গুলি করে।

দেলোয়ার নিজেকে বাসচালক বলে পরিচয় দেন। তিনি সাভারের নবীনগরে ঢাকা-কুয়াকাটাগামী নবীনবরণ নামে একটি বাস চালান। নিহত সালাম তাঁকে ভেড়ামারায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ভেড়ামারায় তাঁর সঙ্গে দেখা করে দেলোয়ার ঢাকায় ফিরছিলেন। আলমগীর আগে মেহেদি বিক্রি করতেন। এখন এলাকায় থাকেন। তিনিও দেলোয়ারের সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বাসে র‍্যাব এসে তাঁদের কাছে অস্ত্র আছে কি না জানতে চান। এরপর গুলি ছোড়ে।

কুষ্টিয়ার হানিফ পরিবহনের বাস কাউন্টারে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ভেড়ামারা থেকে ঢাকাগামী এসি বাসটি প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টায় ছাড়ে। দুই মাস আগেও এই বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওইসময় গাড়িচালক দেলোয়ার ওই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে তাঁরা শুনেছিলেন।

LEAVE A REPLY