ক্রীড়া ডেক্সঃ
ফাফ দু প্লেসিকে পাকাপাকিভাবে করা হোক অধিনায়ক চারপাশ থেকে ভেসে আসছিল আহ্বান, পরামর্শ। বাতাসে ভাসছিল জোর গুঞ্জন, ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকাও আগ্রহী। কিন্তু এবি ডি ভিলিয়ার্সের মত একজনকে সরিয়ে দেওয়াও কঠিন! কাজটা সহজ করে দিলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান নিজেই। ছেড়ে দিলেন টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব। নতুন অধিনায়ক হিসেবে দু প্লেসির নাম ঘোষণা করতেও সময় নেয়নি বোর্ড।

চোটের কারণে কদিন আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে পারেননি ডি ভিলিয়ার্স। সেই চোটে এবার খেলতে পারবেন না দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসছে টেস্ট সিরিজও। সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই জানিয়ে দিলেন নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।

ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থকে বড় করে দেখেই এই সিদ্ধান্ত, জানালেন ডি ভিলিয়ার্স।

“দলের স্বার্থই সব সময় ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে এগিয়ে থাকা উচিত, সেটি আমিসহ। টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটা ছিল দারুণ। কিন্তু আমি দুটি সিরিজ মিস করেছি, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নিয়েও সংশয় আছে। অস্ট্রেলিয়ায় অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর দলের বৃহত্তর স্বার্থে পরিষ্কারভাবেই দু প্লেসির টেস্ট অধিনায়কত্ব পাকাপাকিভাবে নিশ্চিত করা উচিত।”

এই বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের মাঝামাঝি আচমকাই হাশিম আমলা দায়িত্ব ছাড়লে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান ডি ভিলিয়ার্স। দুটি টেস্টে দায়িত্ব চালানোর পর ফেব্রুয়ারিতে পাকাপাকিভাবেই অধিনায়ক করা হয় তাকে। কিন্তু সেই ঘোষণার পর আর কোনো টেস্টে নেতৃত্বই দেওয়া হলো না তার। নেতৃত্বের চার ইনিংসে ব্যাট করে তিনবারই আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে।

গত জুলাইয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের পর থেকেই চোটে মাঠের বাইরে ডি ভিলিয়ার্স। এই সময়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আলো ছড়ান দু প্লেসি। তার নেতৃত্বে নিউ জিল্যান্ডকে সিরিজ হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়ানডে সিরিজে ৫-০তে হোয়াইটওয়াশ করে অস্ট্রেলিয়াকে। এরপর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জেতে টেস্ট সিরিজ। ক্রিকেট বিশ্ব জুড়েই প্রশংসিত হয় তার নেতৃ্ত্ব।

এরপর থেকেই দু প্লেসিকে স্থায়ী ভাবে অধিনায়ক করার ডাক আসছিল। তবে দু প্লেসি নিজে ডি ভিলিয়ার্সের প্রতি আনুগত্যই জানিয়ে এসেছেন বরাবর। প্রধান নির্বাচক লিন্দা জন্দি ও সিনিয়র ক্রিকেটার ডেল স্টেইন বলেছিলেন, ডি ভিলিয়ার্সই অধিনায়ক থাকা উচিত। কিন্তু বাস্তবতা বুঝে কর্তব্যটা নিজেই পালন করলেন ডি ভিলিয়ার্স।
শুধু বিশ্রামে চোট না সারায় অক্টোবরের শুরুতে বাম কনুইয়ে অস্ত্রোপচার করান ডি ভিলিয়ার্স। ধারণা করা হচ্ছিলো, ফিরতে পারবেন নভেম্বরেই। তবে সেটা হয়নি। ঘরোয়া দল টাইটানসের হয়ে প্রথমবার নেট করেছেন গত মঙ্গলবার। পুরো সেরে উঠতে লাগবে আরও তিন-চার সপ্তাহ।

ওয়ানডেতে অবশ্য ডি ভিলিয়ার্সই থাকছেন অধিনায়ক। জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই হয়ত ফিরবেন মাঠে।

নতুন টেস্ট অধিনায়ক দু প্লেসি অবশ্য আছেন একটু অস্বস্তিতে। অস্ট্রেলিয়ায় বল টেম্পারিংয়ের দায়ে জরিমানা হওয়ার পর শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। যেটির শুনানি আগামী সোমবার। শুনানিতে শান্তি কমতে যেমন পারে, বাড়তেও পারে! দু প্লেসি নিষিদ্ধ হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আবার খুঁজতে হবে অস্থায়ী কোনো অধিনায়ক!

LEAVE A REPLY