আজ জয়পুরহাট হানাদার মুক্ত দিবস

১৪ ডিসেম্বর জয়পুরহাট হানাদার মুক্ত দিবস। স্বশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর থেকে মুক্ত হয় জয়পুরহাট জেলা।

১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল পাকসেনারা গভীর রাতে বগুড়ার সান্তাহার থেকে ট্রেনযোগে এসে দখল করে নেয় তৎকালীন মহকুমা শহর জয়পুরহাট। ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয় হানাদার বাহিনীর অগ্নি সংযোগ, ধর্ষণ আর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ।

জয়পুরহাট শহর থেকে ৫ কি.মি. পূর্বে সদর থানাধীন বম্বু ইউনিয়নের কড়ই কাদিপুর গ্রামে ২৬ এপ্রিল স্থানীয় রাজাকার, আলবদরদের সহায়তায় ৩৭১ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃৎশিল্পীকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করে গুলি করে হত্যা করে এবং বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয় হানাদার বাহিনী।

১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে গরুর গাড়ির গাড়োয়ানরা ভারতে পালায়নরত কিছু লোককে ভারতীয় সীমানায় রেখে আসার পথে হানাদার বাহিনীরা ১৬-১৭ জন গাড়োয়ানকে আটক করে, পরে তাদেরকে বাঁশের মোটা গোড়া দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পাগলা দেওয়ান গ্রামের মসজিদে ১৮ জুন জুম্মার নামাজ পালনরত অবস্থায় প্রায় কয়েকশ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে মাগরিবের নামাজের পর ধারালো অস্ত্র বা দা দিয়ে গলা কেটে করে হত্যা করে তারা পুঁতে রাখে।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাকিস্তানি বাহিনী এই গ্রামে প্রায় হাজার-হাজার নিরীহ নারী-পুরুষ ও শিশুকে নিরাপদ আশ্রয় লাভের জন্য ভারত যাওয়ার পথে আশ-পাশের সীমান্ত এলাকা থেকে ধরে এনে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। এখনও সেখানে মাটি খনন করলে হাঁড়-গোড় পাওয়া যায়। পাগলা দেওয়ান গ্রামে নির্যাতনের সাক্ষী হিসাবে এখনও প্রায় ১৫ ইঞ্চি পুরু ছাদ বিশিষ্ট পাক বাহিনীর একটি কংক্রিট বাংকার কালের সাক্ষী হিসাবে রয়েই গেছে।

আক্কেলপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহীদ খোকনসহ ১৫জন মুক্তিযোদ্ধাকে পাক সেনারা গুলি করে হত্যা করে। অবশেষে এই দিনে হানাদারদের হটিয়ে দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জয়পুরহাট মুক্ত করেন।

১৯৭১ সালের এই দিনে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খন্দকার আসাদুজ্জামান বাঘা বাবলুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা বীরদর্পে পা রাখেন পাঁচবিবি উপজেলার ভূঁইডোবা গ্রামে। বাংলাদেশের বিজয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলিত হয় পাঁচবিবি লাল বিহারী হাইস্কুল মাঠে ও ডাক বাংলো মাঠে।

এদিকে আজ সোমবার দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রসাশনের উদ্যোগে জয়পুরহাট সদরের পাগলা দেওয়ান ও কড়ই কাদিপুর, আক্কেলপুর উপজেলার আমুট্ট, পাঁচবিবি উপজেলাসহ জেলার সব কয়টি বধ্যভূমিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে এক আলোচনা সভায় বক্তারা অবিলম্বে সকল যুদ্ধপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির দাবি জানান।

LEAVE A REPLY