একাত্তরে বুদ্ধিজীবীসহ লাখো মানুষ হত্যায় জড়িতদের রাজনীতি করার অধিকার বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আআমস আরেফিন সিদ্দিক।

আজ বুধবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।

পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মদদে রাজাকার, আল বদর আর আল শামসের সদস্যরা জাতির যে মেধাবী সন্তানদের হত্যা করে তাদের অনেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।

উপাচারর‌্য সে কথা স্মরণ করে বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রাজনীতিক অধিকার রহিত করতে হবে।

“তাদের কোন রাজনীতিক পরিচয় থাকবে না, রাজনীতিতে তাদের কোনো অধিকার থাকবে না। এ দেশে বসবাস করবে, কিন্তু সাধারণ জনতা তাদের মেনে নেবে না।” মেধাবী সন্তানদের মৃত্যুতে শহীদ পরিবারের পাশাপাশি জাতিরও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“এ মৃত্যু কত বেদনাদায়ক, আজ শহীদ পরিবারে স্বজনদের নিকট সেটা উপলদ্ধি করা যাবে, আমরাও উপলদ্ধি করি। বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি- শিক্ষক, চিকিৎসক আইনজীবী তাদের হত্যা করা হয়েছে।

“যুদ্ধপরবর্তী সময়ে পরিবার তাদের লাশ পেয়েছে রায়েরবাজার নয়তো মিরপুরে। কারো কারো লাশই পাওয়া যায় নি। অথচ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারে সদস্যরা মনে করেছিলেন- তিনি ফিরে আসবেন কিন্তু আর আসেননি।”

“বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন অল্প সংখ্যক ছাত্র-শিক্ষক ছিল। একে অপরকে চিনতো। এই ছাত্রদের কেউ কেউ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শিক্ষকদেরও তুলে দিয়েছে।”

উপাচার‌্য এসময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে দণ্ড পাওয়া প্রবাসী দুই যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের কথা উল্লেখ করে তাদের দেশে এনে রায় কার‌্যকরের দাবি জানান।

“বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চৌধুরী মঈনুদ্দিন, আশরাফুজ্জামান খান বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিও দিয়েছে আদালত কিন্তু তারা এখনও বিদেশ পলাতক। তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার‌্য করতে হবে।”

আরেফিন সিদ্দিক একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ‘পুনর্বাসনের’ জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করেন।

“মুক্তিযুদ্ধে পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করেছিলেন। অনেককে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায়ও এনেছিলেন; কিন্তু সেনাশাসক জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সামরিক ফরমান জারি করে গণহত্যাকারীদের মুক্তি দেয়।”

‘৭৫ পরবর্তী’ অন্ধকার সময় পেরিয়ে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এ গতি অব্যাহত রাখতে তরুণ শিক্ষার্থীদের ‘দেশের কাজে সম্পৃক্ত’ করারও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপচার‌্য (প্রশাসন) মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার‌্য (শিক্ষা) নাসরীন আহমদ ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ছাড়াও দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সকালে উপাচার্য ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনের কবরস্থান, জগন্নাথ হল প্রাঙ্গনের স্মৃতিসৌধ ও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে।

মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ বিভিন্ন হলের মসজিদ ও উপাসনালয়ে বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

LEAVE A REPLY