আগামী ১৩-১৫ ও ২০-২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রস্তুতিমুলক সভা করেছে জেলা প্রশাসক।

বুধবার সকালে ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক এসএম আলমের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় মুসল্লিদের সুবিধার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, এবারও ৫ স্তরের র‌্যাব-পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে পুরো ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা। ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবায় ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও ঔষধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানের পশ্চিমে তুরাগ নদীর উপর ৭টি পল্টুন ব্রীজ তৈরি করবে সেনাবাহিনী, ইজতেমায় আগতদের তিন স্তরে নিরাপত্তা দেবে র‌্যাব।

এছাড়া মোটরসাইকেল টহল, নৌ টহল ও হেলিকপ্টারে টহলে থাকবে র‌্যাব সদস্যরা। বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যগণ সাদা পোশাকে পুরো ইজতেমা ময়দানে অবস্থান নেবেন। র‌্যাবের ৯টি পর্যবেক্ষন টাওয়ার থেকে ইজতেমা ময়দানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

সভায় রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইজতেমার মোনাজাতের দিন ১১৫টি ট্রেন যাত্রা বিরতি করবে টঙ্গী স্টেশনে। মুসল্লিদের জন্য ওজু, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার ও ভ্রাম্যমান টিকেট বিক্রি করা হবে। বিআরটিসির ৩৫০টি বাস মুসল্লিদের যাতায়তের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

এছাড়া বিদেশী মেহমানদের কাকরাইল মসজিদ এবং বিমান বন্দর থেকে ইজতেমা ময়দানে আনার জন্য পর্যাপ্ত এসি বাস বরাদ্ধ থাকবে। ইজতেমা ময়দানের বিদেশী নিবাসে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবার নতুন একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সবুর জানান, ইজতেমার আগের দিন থেকে ইজতেমা শেষ হওয়ার পর দিন পর্যন্ত পুলিশ মুসল্লিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। ৫ স্তরের নিরাপত্তা পার হয়ে ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করতে হবে সবাইকে।

এছাড়া ইজতেমা শুরুর আগে ২০টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানের আশপাশে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, বিলবোর্ড ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সচিব মোঃ আসলাম হোসেন, গাজীপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক জামিল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, সিভিল সার্জন ডা. আলী হায়দার খান, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আমিরুল ইসলাম খান, সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ রেজা, র‌্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি কোম্পানী কমান্ডার মহিউল ইসলাম, মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি অ্যাডভেকোট ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, তাবলীগ জামাতের মুরুব্বী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান, পরিবহন শ্রমিক নেতা সুলতান আহমেদ সরকার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান, খায়রুল ইসলাম, সাংবাদিক মাসুদ রানা প্রমুখ।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানান, বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত, বিদ্যুৎ, টেলিফোন, গ্যাস, চিকিৎসা সেবা বাস্তবায়ন এবং সার্বিক আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশসহ বিভিন্ন দফতরের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আগামী ইজতেমা শুরুর আগেই ইজতেমা সম্পর্কিত সকল কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর প্রদানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY