সোসাইটিনিউজ ডেস্ক:
বরেন্দ্র এলাকাসহ এই অঞ্চলে মাল্টা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লাভজনক বাজার মূল্য কৃষকদের মাল্টা চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, গোদাগাড়ী, তানোর, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের কৃষকগণ ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দিপনা নিয়ে দু’শ বিঘা জমিতে মাল্টা বাগান তৈরি করছেন।

এই অঞ্চলে মাল্টা চাষের উপযোগী আবহাওয়া ও মাটি থাকায় ডিএই’র কর্মকর্তাগণ কৃষকদের মাল্টা চাষে উৎসাহ প্রদান করছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঝিলিক এলাকার মাল্টা চাষী মতিউর বলেন, তিনি আট’শ মাল্টা ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মাল্টা হলুদ রংয়ের, আকারে বড় ও খুব মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা ব্যাপক হয়। মতিউর বলেন,  আমি ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারি।

মাল্টা চাহিদার কারণে তিনি গত বছর আরো ছয় বিঘা জমিতে ছয়’শ চারা রোপন করেন। তিনি বলেন, প্রতি গাছ থেকে একশ’ থেকে দু’শ মাল্টা পেয়ে থাকি। চলতি বছরে তিনি তার মাল্টার বাগান থেকে ১৫ হাজার মাল্টার উৎপাদন পাবেন বলে ধারণা করছেন।

তিনি চারা উৎপাদনের মাধ্যমে ভাল আয় করে থাকেন। তিনি ২৫ হাজার চারা ২৫০ টাকা থেকে ৪শ’ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আট লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি আশা করছি চারা বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা আয় করতে পারবো। তিনি বলেন, দুই মাসের মধ্যে ১০ হাজার চারা বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হবে।

গত বছর কৃষকগণ প্রতি পিস মাল্টা ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এটা দেখে তানোর উপজেলার লালপুর গ্রামের মোসলেম আলী অনুপ্রানিত হয়েছেন এবং তিনি দেড় বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।
অপেশাদার কৃষক মাহবুবুর রহমান বলেন, মতিউরকে দেখে আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবু দেইং এলাকায় চার বিঘা ও গোমস্তাপুর উপজেলায় ৬০ বিঘা জমিতে মাল্টা চাষ করেছি।

জেলার ১৫০ বিঘা জমি মাল্টা বাগানে রুপান্তরিত করা হচ্ছে।

ফল গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলিম বলেন, কৃষকেরা মৌসুমী প্রতিটি গাছ থেকে একশ’র বেশি ফল পেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত মাল্টা আমদানিকৃত চীন, ভারত ও পাকিস্তান মাল্টা থেকে উৎকৃষ্ট।

ড. আলিম বলেন, এই অঞ্চলের মাটি মাল্টা চাষের উপযোগী। এখানে মিষ্টি ও উন্নত জাতের মাল্টা উৎপাদন সম্ভব।
ছত্রাক ও পোকামাকড় থেকে ফল রক্ষা করতে ইকো ফ্রেন্ডলি ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস

LEAVE A REPLY