সিলেটে শিল্পপতি রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান বন্দোবস্ত নিতে মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়।

আদালতের রেজিস্ট্রারের দপ্তর সূত্র জানায়, এ মামলায় মোট ১৪ জন সাক্ষী। এর মধ্যে আজ সর্বশেষ পর্যায়ে সিলেটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুম বিল্লাহ ও মামলার শুরুর দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আবু জাহের সাক্ষ্য দেন। এ দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মামলার সাক্ষ্য শেষ হওয়ার বিষয়টি ঘোষণা দেন। এর আগে ৪ ডিসেম্বর রাগীব আলীর ছেলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার আটজন সাক্ষীর পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণ (রিভিউ) হয়।

আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান বলেন, সাক্ষ্য শেষ হওয়ায় এ মামলার যুক্তিতর্কের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করে রায় ঘোষণার দিনক্ষণও চূড়ান্ত হবে।

এদিকে, একই আদালতে চলা রাগীব আলীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপর মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করতে বিচারক সাক্ষীদের সমন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, নগরের পাঠানটুলার উপকণ্ঠে ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গার তারাপুর চা-বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে বাগানটির দখল নেন রাগীব আলী। সেখানে তাঁর ও স্ত্রীর নামে মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজ স্থাপন করেন। হাসপাতাল এলাকার আশপাশের চা-বাগানের জায়গা বিক্রি করে ৭১৫টি প্লটে বাড়ি তৈরি করা হয়।

দেবোত্তর সম্পত্তির চা-বাগান বন্দোবস্ত নেওয়া ও চা-ভূমিতে বিধিবহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে সংসদীয় তদন্ত কমিটির পরামর্শে ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন। পরবর্তীকালে মামলা দুটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নিষ্পত্তি করে পুলিশ।

গত ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তারাপুর চা-বাগান পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে রায় দেন। রায়ের ১৭টি নির্দেশনার মধ্যে ওই দুটি মামলা সক্রিয় করতে বলা হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারি কৌঁসুলির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটের মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম মামলা দুটি তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। ১০ জুলাই পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ১২ আগস্ট আদালত থেকে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ওই দিনই পালিয়ে ভারতের করিমগঞ্জ চলে যান রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে।

গত ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন রাগীব আলী। ওই দিনই তাঁকে দেশে পাঠানো হলে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন হয়ে দেশে ফেরার সময় তাঁর ছেলে আবদুল হাই গ্রেপ্তার হন।

LEAVE A REPLY