দুদকের গণ-শুনানি; তোপের মুখে রাজউক কর্মকর্তারা

রাজউকের অথরাইজড অফিসার মো. মিজানুর রহমান পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। রাজউক নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত গণশুনানিতে এমন অভিযোগ করেন উত্তরা সংলগ্ন তুরাগ থানার রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তফা জামান। গণশুনানিতে অভিযোগকারীদের তালিকায় তার সিরিয়াল নম্বর ছিল ২৮।

মোস্তফা জামান অভিযোগ করে বলেন, উত্তরায় তার ১২০ কাঠা জমিতে রূপায়ন হাউজিংকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রাজউকের অথরাইজড অফিসার মিজানুর রহমান পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে রূপায়নকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন। এই লেনদেনের তথ্যপ্রমাণ তার কাছে রয়েছে।

মোস্তফা জামান জানান, তার জমিটি যে এলাকায় পড়েছে সেটি অথরাইজড অফিসার মিজানুর রহমানের আওতাভুক্ত নয়। এরপরও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্য অফিসারের এলাকায় গিয়ে এ অপকর্ম করেন। মোস্তফা জামান এর প্রতিকার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।

দুদকের গণশুনানীতে এমন অভিযোগের সময় রাজধানীর কাকরাইলে ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে ছিল পিনপতন নিরবতা।

গণশুনানিতে উপস্থিত দুদকের কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ বিষয়টি সুরাহা করতে রাজউক চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দেন।

আগামী সপ্তাহে এই অভিযোগের সুরাহা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন রাজউক চেয়ারম্যান এম বজলুল করিম চৌধুরী।

গণশুনানিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার এএফএম আমিনুল ইসলাম, সদস্য উন্নয়ন প্রকৌশলী আবদুর রহমানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গণশুনানি সঞ্চালনা করেন দুদকের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া ও ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার।

এদিকে গণশুনানিতে মোস্তফা জামানসহ ৪০ জন ভুক্তভোগী নাগরিক বিভিন্ন অভিযোগ ও রাজউক নিয়ে তাদের হয়রানির কথা তুলে ধরেন। এদের বেশির ভাগের অভিযোগই ছিল রাজউকের বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে পুনর্বাসন প্লট সংক্রান্ত। রাজউক চেয়ারম্যান এসব অভিযোগ পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।

এর আগে গত ২৭শে জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাজউককে নিয়ে প্রথম গণশুনানির আয়োজন করে দুদক। ওই গণশুনানিতে প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর সর্বশেষ বাস্তবায়ন পরিস্থিতিও এদিনের গণশুনানিতে পর্যালোচনা করা হয়। বেলা সোয়া দুইটা পর্যন্ত চলে গণশুনানি। এটা ছিল দুদকের ৩৫তম গণশুনানি।

LEAVE A REPLY