সোসাইটিনিউজ ডেস্ক:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বিজয় দিবসের উন্নতমানের খাবার খাওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের ছয় কর্মী আহত হয়েছেন।

এদিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানকে মারধর করেছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ছাত্রলীগের দলীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন হলের সহ-সভাপতি খন্দকার নওশাদ কবির ডাইনিংয়ে খাবার নিতে যায়। সেখানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের হল শাখার কর্মীরা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া খাবার দেয়া হবে না বলে জানায়।

এতে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নওশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের দিকে তেড়ে যায়। পরে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস গ্রুপের কর্মী শাকিল আহম্মেদ সুমন, উজ্বল হোসেন ডলার, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, বহিরাগত বিপুলসহ ১৫/২০জনের একটি গ্রুপ লাটিসোটা ও রড নিয়ে সভাপতি গ্রুপের ওপর হামলা চালায়।

হামলায় আহত হন হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের জসিম, একই বিভাগের নীল, পদর্থ বিজ্ঞান বিভাগের হৃদয়, মার্কেটিং বিভাগের মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন ও আশিকুর রহমান হিমেল।

আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে গুরুতর অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক জসিম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল থেকে সাদ্দাম হোসেন হলের দিকে আসলে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এসময় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আরিফুল ইসলাম পেছন থেকে প্রক্টরের পিঠে ঘুষি মারেন। পরে ছাত্রলীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এবিষয়ে ছাত্রলীগের সধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস বলেন, কেউ যদি টোকা মারে আমরা তার প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছি।

সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী বহিরাগতরা এসে বিজয় দিবসে বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন,ঘটনা শোনামাত্রই আমি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। বিজয় দিবসের দিনে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।