নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতি আলোচনার আহ্বান জানালে ইতিবাচক সাড়া দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সার্চ কমিটির মাধ্যমে ইসি গঠনে সরকারি দল কোনো আপত্তিও করবে না। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সরকারি দল আওয়ামী লীগের ডাক পড়বে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য বৈঠক হতে পারে জানুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে বঙ্গভবনে আওয়ামী লীগের বৈঠক হলে দ্রুত সার্চ কমিটি গঠন সম্ভব হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে সরকারি দলের সুবিধা একটু বেশি। কেননা এর মধ্যে অন্যান্য দলের প্রস্তাব আগাম জানার সুযোগ থাকবে। সে অনুযায়ী সরকারি দল তাদের সুবিধামতো প্রস্তাবিত তালিকা চূড়ান্ত করতে পারবে। তবে যেহেতু বিষয়টি শেষ পর্যন্ত বড় দুটি দলের পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে ঘুরপাক খাবে তাই আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতৈক্য না হলে সব ফর্মুলা ভেস্তে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, সার্চ কমিটি গঠনে দলের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহলে ইতিমধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে সভাপতি পদে কিছুটা পরিবর্তনের আশা করছেন কেউ কেউ। তবে বিশেষ কারণে এ ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চান না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য যুগান্তরকে বলেন, সবকিছু এখন গণমাধ্যমে বলে দিলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার তাৎপর্য থাকে না। তবে বিতর্কমুক্ত, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে হয় সেদিকে খেয়াল রেখে আওয়ামী লীগ তার প্রস্তাবনা দেবে। সেক্ষেত্রে কিছুটা চমক তো থাকতেই পারে।

এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা  বলেন, রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি করতে চাইলে আওয়ামী লীগ অবশ্যই স্বাগত জানাবে। তবে দেখা যাক এবার তাতে তিনি কি পরিবর্তন আনেন। কেননা এবার কিছুটা পরিবর্তন তারা আশা করছেন। এর বেশি তিনি খোলাসা করতে চাননি।

এদিকে দলের অপর একটি সূত্র জানায়, সার্চ কমিটি গঠনে সরকারি দলের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে প্রস্তাবনা দেয়া হলেও শরিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। প্রস্তাবের বহুমাত্রিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে মাথায় নিয়ে পর্দার আড়ালে এ কাজটি সেরে ফেলা হবে। তবে শেষমেশ কী হবে তা সময়ই বলে দেবে।

সূত্র জানায়, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেবে আওয়ামী লীগ। এ দলে থাকতে পারেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফরুল্লাহ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ড. আবদুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গির কবির নানক এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওসার। বিএনপির মতোই আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলও ১০ সদস্যের হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, রাষ্ট্রপতি আহ্বান করলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে নির্ধারিত হবে কত সদস্যের প্রতিনিধি দল হবে, কে কে থাকবেন সেই প্রতিনিধি দলে এবং কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

প্রথমবারের মতো সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন হয় ২০১২ সালে। এতে প্রধান বিচারপতি মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারককে সভাপতি করে গঠিত ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে সদস্য হন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্মকমিশন চেয়ারম্যান।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখে। ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় বর্তমান কমিশন। কমিশন গঠনের লক্ষ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান একই বছরের ২৪ জানুয়ারি ৪ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন। সার্চ কমিটি গঠনের আগে ২০১১ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত নেন প্রয়াত এ রাষ্ট্রপতি। সার্চ কমিটির কাছে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম জমা দেয় রাজনৈতিক দলগুলো। যদিও তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি কারও নাম প্রস্তাব করা থেকে বিরত থাকে।

এবারও আলোচনার মাধ্যমেই ইসি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছেন বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আলোচনার জন্য তিনি ইতিমধ্যে বিএনপিসহ ৫টি রাজনৈতিক দলকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামীকাল বঙ্গভবনে যাচ্ছে বিএনপি। যুগান্তর

LEAVE A REPLY