নিউজ ডেস্ক
অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, থাইল্যান্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রম বাজারে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি করার জন্য সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস উপলক্ষে শনিবার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান।

কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, গত জানুয়ারি থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭ লাখ ২২ হাজার ১০০ জন বাংলাদেশীর চাকরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বছর শেষে এই সংখ্যাটা সাড়ে সাত লাখ ছাড়িয়ে যাবে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, চলতি বছরে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বছর শেষে এই সংখ্যাটা সাড়ে সাত লাখ ছাড়িয়ে যাবে। দেশে প্রতিবছর ২০ লাখেরও বেশি পুরুষ ও মহিলা কর্মী শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর জন্য দেশে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা অনেকাংশে সম্ভব হয় না। এ কারণেই কর্মীদের বিশাল একটি অংশ বিদেশে পাড়ি জমান। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক গেছে সৌদি আরব।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার বলেন, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছে এক লাখ ২০ হাজার শ্রমিক। বিশাল বাজারের এই দেশটিতে ২০০৮ সাল থেকে শ্রমিক পাঠানো বন্ধ ছিল। বর্তমান সরকারের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ফের চালু হয় সৌদির শ্রমবাজার। এরপর বেশি শ্রমিক গেছে কাতার এবং ওমানে, প্রায় দুই লাখ। সৌদি আরবের প্রায় ৫০ হাজার ভিসা কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি এনে ফেলে রেখে বাজার নষ্ট করছে-এই ধরনের একটি অভিযোগের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘কেউ যদি ভিসা এনে পকেটে রেখে দেয়। আর আমাদের কাছে যদি কেউ অভিযোগ না করে তাহলে কীভাবে ব্যবস্থা নেবো? তবে সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানো নিয়ে প্রতারণার দায়ে আমরা রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

মালয়েশিয়া নিয়ে যে সংকট আছে সেটিও আশু সমাধান হবে বলে জানিয়ে সচিব শামছুন নাহারন বলেন, ‘মালয়েশিয়া নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরেই কাজ করছি। মালয়েশিয়া ডিমান্ড লেটার দিলেই শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে কাজ শুরু হবে।

দক্ষ জনশক্তি তৈরি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ টি উপজেলায় ৪০ টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ গুলি নির্মাণ সম্পন্ন হলে প্রতিবছর চার থেকে পাঁচ লাখ দক্ষ কর্মী তৈরি করা যাবে বলে মন্ত্রী জানান।

বর্তমানে ১৬২ টি দেশে বাংলাদেশের কর্মী যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছে।

LEAVE A REPLY